নরওয়ের সিংহাসনে রাজা অষ্টম হাকন; নানা বিতর্কের মুখে রাজপরিবারের জনপ্রিয়তা রক্ষার চ্যালেঞ্জ

আবিদ মঈন
রওয়ের সিংহাসনে রাজা অষ্টম হাকন
রওয়ের সিংহাসনে রাজা অষ্টম হাকন | ছবি: সংগৃহীত
0

নরওয়ের নতুন রাজা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ৫৩ বছর বয়সী যুবরাজ হাকন। গতকাল (শুক্রবার, ২৮ আগস্ট) তার বাবা রাজা পঞ্চম হারাল্ডের মৃত্যুর পর তিনি দেশটির সিংহাসনে বসেন। রাজপরিবারের রীতি অনুযায়ী তিনি এখন রাজা অষ্টম হাকন হিসেবে পরিচিত হবেন। ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাবার মৃত্যুর পর হাকনের জ্যেষ্ঠ সন্তান ইনগ্রিড আলেকজান্দ্রা এখন ক্রাউন প্রিন্সেস ও নরওয়ের সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পঞ্চম হারাল্ডের শারীরিক অসুস্থতার কারণে একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় রাজকীয় কাজের সঙ্গে হাকন আগে থেকেই পরিচিত।

নবম শতকে রাজা হারাল্ড ফেয়ারহেয়ারের মাধ্যমে নরওয়েতে রাজতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে আধুনিক নরওয়েতে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাজার ভূমিকা মূলত প্রতীকী এবং শাসন পরিচালনার মূল রাজনৈতিক ক্ষমতা নির্বাচিত পার্লামেন্টের হাতে ন্যস্ত।

হাকন তার বোন প্রিন্সেস মার্থা লুইসের চেয়ে দুই বছরের ছোট হলেও তৎকালীন উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী ১৯৯১ সালে দাদা রাজা ওলাভের মৃত্যুর পর যুবরাজ হন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে সংবিধানে সংশোধন এনে লিঙ্গনির্বিশেষে প্রথম সন্তানকে উত্তরাধিকারী করার নিয়ম করা হলেও তা পূর্ববর্তী ঘটনায় কার্যকর ছিল না। অষ্টম হাকন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি নরওয়ের নৌবাহিনী ও কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

নতুন রাজা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর হাকনের সামনে রাজপরিবারের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তার সৎছেলে মারিয়াস বোর্গ হোইবি সম্প্রতি ধর্ষণের দুটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। হোইবির আইনজীবী এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে অতীত যোগাযোগের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েন হাকনের স্ত্রী মেটে-মারিত। ওই যোগাযোগের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এসব ঘটনার পাশাপাশি হাকনের বোন মার্থা লুইসের কিছু ব্যক্তিগত বিতর্কের কারণে নরওয়েতে রাজপরিবারের প্রতি জনসমর্থনে কিছুটা ভাটা পড়েছে। ২০২২ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটিতে রাজতন্ত্রের পক্ষে সমর্থন কমে ৬৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৭ সালে ছিল ৮১ শতাংশ।

এএম