হরমুজের নির্ভরতা কমাতে তোড়জোড়, বন্দর ও পাইপলাইনে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিশাল বিনিয়োগ

ফুজাইরাহ বন্দরে বাল্ক ক্যারিয়ার ‘অ্যাডভেঞ্চার’
ফুজাইরাহ বন্দরে বাল্ক ক্যারিয়ার ‘অ্যাডভেঞ্চার’ | ছবি: রয়টার্স
0

ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাণিজ্যের পথ বদলে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালির ওপর দীর্ঘদিনের অতিনির্ভরতা কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলা ও দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার লক্ষ্যে জ্বালানি পাইপলাইন ও সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে শতকোটি ডলারের নতুন বিনিয়োগে নেমেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।

গত ছয় মাসের বেশিরভাগ সময় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলো গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। সংকট কাটাতে সৌদি আরব লোহিত সাগর উপকূলের বন্দর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত তার পূর্ব উপকূলের বন্দরের মাধ্যমে বাণিজ্য পরিচালনা করছে। তবে এসব বন্দরের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এখন হরমুজের বাইরে বিকল্প ও সমন্বিত স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম সম্পদ তহবিলগুলো বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো জোরদারে দ্রুত অর্থ বিনিয়োগ করছে। আবুধাবির সার্বভৌম সম্পদ তহবিল লিমাদ সম্প্রতি এডি পোর্টস পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এর সম্পূর্ণ মালিকানা কিনে নেয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছে। দুবাইভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা ডিপি ওয়ার্ল্ড ফুজাইরায় দুটি কনটেইনার টার্মিনাল গড়ে তুলছে। একই সঙ্গে আমিরাত সেখানে নতুন একটি তেলের পাইপলাইন নির্মাণ করছে, যার মাধ্যমে ২০২৭ সাল নাগাদ ফুজাইরা বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি সক্ষমতা দ্বিগুণ হবে।

সৌদি আরবও হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলে তেল পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে শতকোটি ডলারের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশটি তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকেও হরমুজ ছাড়া তেল রপ্তানিতে সহায়তা করতে পারবে।

যুদ্ধের প্রভাবে চলতি বছর কাতার ও কুয়েতের অর্থনীতি ৮ শতাংশের বেশি সংকুচিত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের তেল পরিবহনের জন্য সৌদি আরব ও আমিরাতের পাইপলাইন অবকাঠামো ব্যবহারের আলোচনা শুরু করেছে কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। অন্যদিকে ইরাক তুরস্কের জেইহান বন্দর ছাড়াও সিরিয়া ও জর্ডানের মধ্য দিয়ে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করে তেল রপ্তানির উদ্যোগ নিচ্ছে। পাশাপাশি তুরস্ক, সৌদি আরব, জর্ডান ও সিরিয়াকে যুক্ত করে একটি যৌথ রেলওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের মিডল ইস্ট ইনিশিয়েটিভের সাবেক সিনিয়র ফেলো আফাক হুসাইন বলেন, ‘সাম্প্রতিক হরমুজ প্রণালির সংকট আমাদের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে যে এসব ঝুঁকি বাস্তব এবং যেকোনো সময় যেকোনো কৌশলগত জলপথে এমন ঘটতে পারে।’

এএম