নিষেধাজ্ঞা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বাগবিতণ্ডা, তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল-থানি
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল-থানি | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা জোরদার ও ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদেরও শাস্তির হুঁশিয়ারি ঘিরে ওয়াশিংটন-তেহরান পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ ফের জোরদার করতে আজ (বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট) তেহরান সফরে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল-থানি। যুদ্ধ প্রায় ছয় মাসে গড়ালেও সামরিক হামলা অনেকটা থেমে আছে, তবে কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়নি এই প্রেক্ষাপটে সফরটি হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তেহরান সফরে কাতারের প্রধানমন্ত্রী মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং অঞ্চলটির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। কাতার ইরানের প্রতিবেশী এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। যুদ্ধের শুরু থেকে কাতার দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের ‘ব্যাক-চ্যানেল’ হিসেবে কাজ করেছে। গত জুনে যে যুদ্ধবিরতিতে কিছুদিনের জন্য হামলা বন্ধ ছিল, সেটি আদায়ে কাতারের সরাসরি ভূমিকা ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। বৃহস্পতিবার ভোরে প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত প্রক্ষেপণের আঘাতে আগুন লাগে। যুক্তরাজ্যের ইউকেএমটিও জানায়, পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ আছেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। সমঝোতা স্মারক ভেঙে পড়ার একটি কারণ হিসেবে ইরান-ওমানের মাঝের এই সংকীর্ণ জলপথ নিয়ে মতপার্থক্যের কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সর্বশেষ শিপ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল চলাচল নেমে এসেছে দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেলে, যা তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। যুদ্ধের আগে এই পথে দৈনিক প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন হতো।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে প্রায় এক মাস ধরে ইরানে হামলার কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপে বেশি জোর দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়বে, যদিও তাৎক্ষণিক শাস্তি আরোপ করা হবে না।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ওমানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ইরানি পক্ষের বক্তব্যেও ভিন্নতা দেখা গেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বুধবার বলেন, প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে ওমানের সঙ্গে দুই পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য ফলাফলে পৌঁছেছে ইরান। তবে রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র জানিয়েছে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের শুরুতে বিমান হামলায় ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হলেও উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ভেতরে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করা এবং প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল ব্যাহত করার মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা তেহরানের হাতে আছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ৭০টি ঘটনায় ১৯ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এএম