এদিকে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলেছে, বন্যার পর ৯১০ জন এখনও নিখোঁজ ও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন। তাদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। পাশাপাশি নেপাল সেনাবাহিনীর ৪৪ জন সদস্য ও নেপাল পুলিশের ২৮ জন কর্মকর্তা নিখোঁজ রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৩৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি নুয়াকোট জেলার বিদুর ও আশপাশের জনপদ পরিদর্শন করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সফরে তিনি স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা সংস্থা ও কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ঘরছাড়া পরিবারগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা, বন্ধ সড়ক দ্রুত খুলে দেয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন তিনি। পরিদর্শন শেষে তিনি রাজধানী কাঠমান্ডুতে ফিরে যান।
তিব্বতে কী পরিস্থিতি
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল। তবে নেপাল ও তিব্বতের নিখোঁজের সংখ্যা একে অপরের সঙ্গে কতটা মিলে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।
গিরোং বন্দর কেন আলোচনায়
তিব্বত-নেপাল সীমান্তে গিরোং বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চীনে উদ্ধার তৎপরতার একটি বড় অংশ সেখানে কেন্দ্রীভূত। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে সীমান্ত চেকপোস্ট এলাকা কাদা ও পানির তোড়ে ভেসে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গিরোং ছিল নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে পর্যটকদের যাতায়াতের প্রধান পথ। চলতি বছরের প্রথমার্ধে এক লাখের বেশি মানুষ এই পথ ব্যবহার করেছেন। চীন-নেপাল বাণিজ্যেরও ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিচালিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন—ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ গভীর উপত্যকায় কেন এমন গুরুত্বপূর্ণ বন্দর তৈরি করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতিহাসগতভাবেই এই এলাকার উপত্যকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে।
কারণ কী, আর সামনে কী ঝুঁকি
দুর্যোগের কারণ নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিকম্পের কথা বলা হলেও এখন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ থেকেই বন্যার সূত্রপাত। এদিকে নদীতে আটকে থাকা ধ্বংসাবশেষের কারণে নতুন করে ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউ’ নামার আশঙ্কার কথাও বলা হচ্ছে।
নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ডিসাস্টার স্টাডিজের পরিচালক বসন্ত রাজ অধিকারী বিবিসিকে বলেছেন, আজ বা আগামীকাল নতুন করে ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউ’ আসতে পারে। তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত না থাকলেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে।





