আঙ্কারার হিসাব-নিকাশ ও যুক্তরাষ্ট্রের তোড়জোড়
হামলার পরপরই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আঙ্কারাকে একটি বার্তা দেয়া হয়েছে। তবে তুরস্ক সরাসরি দ্বিপক্ষীয় সংঘাত না বাড়িয়ে পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন কূটনৈতিক স্তরে নিয়ে গেছে। এর আগেই দামেস্ক নিশ্চিত করেছিল যে ওই ঘাঁটিতে কোনো তুর্কি সামরিক উপস্থিতি গড়ার পরিকল্পনা ছিল না এবং এই তথ্য ইসরাইলকে জানানোও হয়েছিল।
পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি টম ব্যারাক এ হামলাকে ‘অপ্রয়োজনীয় উসকানি’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে ইসরাইল, তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে সংঘাত এড়াতে ওয়াশিংটন একটি যৌথ দে-এসকেলেশন বা সংঘাত কমানোর কৌশল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।
‘ভুল ঠিকানায় চিঠি’ ও আঙ্কারার সংযম
তুরস্কের কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, নেতানিয়াহুর এই কৌশল মূলত আঙ্কারাকে ফাঁদে ফেলার একটি প্রয়াস। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক তুর্কি কর্মকর্তা বলেন, নেতানিয়াহুর সামরিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে পড়েছে এবং আঙ্কারা সেই ফাঁদে পা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, নেতানিয়াহু মূলত ‘ভুল ঠিকানায় চিঠি পাঠাচ্ছেন’।
তুরস্ক এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিরিয়ায় ইসরাইলি তৎপরতাকে অবৈধ বললেও দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়ায় যায়নি। প্রাথমিক সময়গুলোয় সামরিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে আঙ্কারা উত্তেজনার ভরকেন্দ্রটি তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের দিকে ঠেলে দিতে সক্ষম হয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ওপর চাপ ও কৌশলগত ঝুঁকি
সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গাজায় দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাত, লেবানন পরিস্থিতি এবং সিরিয়ায় চলমান অভিযানের কারণে ইসরাইলি বাহিনী ইতিমধ্যে ব্যাপক চাপে রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে তুরস্কের মতো আঞ্চলিকভাবে শক্তিশালী কোনো পরারাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু করা ইসরাইলের বাহিনীর জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
ইসরাইলের সামরিক কাঠামোর গতিপ্রকৃতি বোঝেন এমন একটি সূত্রের মতে, গাজা বা লেবাননের অরাষ্ট্রীয় শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা আর তুরস্কের মতো একক সার্বভৌম ও শক্তিশালী রাষ্ট্রের মুখোমুখি হওয়া এক বিষয় নয়। তারা মনে করছেন, আঙ্কারা কড়া সংযম ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে সাময়িকভাবে এ সংঘাত এড়িয়ে গেলেও সামনে এ ধরনের সামরিক উসকানি অব্যাহত থাকতে পারে।





