রয়টার্সের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনৈতিক ‘লাইফলাইন’ কাটার লক্ষ্য নিয়ে নতুন আর্থিক শাস্তির কথা বলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানকে ‘যে কোনো ধরনের লাইফলাইন’ দিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেও অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহিকে উদ্ধৃত করে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে ‘বিস্তৃত ও চূড়ান্ত’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘স্থল, সমুদ্র, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার স্পেসে প্রস্তুতি নিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুর নতুন হুমকির জবাব দেবে শাস্তিমূলক ও ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়ায়।’
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ‘অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা’ মোকাবিলায় তেহরানকে পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে তা কাটিয়ে ওঠা যায়। ইরাকে দেয়া বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও ‘কগনিটিভ’ যুদ্ধের অভিযোগ করেন।
স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে বলেন, নতুন পদক্ষেপ তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়ার মতো হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করি, তাহলে সম্ভবত বড় পরিসরের সামরিক পুনরারম্ভ হবে না।’ সোমবার তিনি সংবাদ সম্মেলনে ইরান নিয়ে কী করা হবে, তা বিস্তারিত বলবেন বলেও জানান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান যুদ্ধের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোও জড়িয়ে পড়েছে এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলা চালিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৭টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের তুলনায় অর্ধেক। যুদ্ধের আগে এ সংখ্যা দিনে ১৩০টির বেশি ছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এপ্রিলে ও জুনে দুই দফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও তা দ্রুত ভেঙে পড়ে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ইরানিদের ‘স্বাধীনতা, মর্যাদা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব’ রক্ষার সংকল্পে ‘সামান্যতম দ্বিধা’ও তৈরি করতে পারবে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, হামলার জবাব হবে ‘ধ্বংসাত্মক’, তবে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হওয়ায় যুদ্ধ এখনই শেষ হওয়া উচিত এ অবস্থানও তিনি তুলে ধরেছেন।
চীন প্রসঙ্গে বেসেন্ট বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীন তার প্রায় অর্ধেক জ্বালানি পায়, তাই তাদের ‘প্রোগ্রামের সঙ্গে’ থাকা যুক্তিযুক্ত। কেপলারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যে তেল পাঠায় তার ৮০ শতাংশের বেশি চীন কিনে। রয়টার্স বলছে, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ-টানাপোড়েনের ঝুঁকিও আছে। ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস বলেছে, ‘নিষেধাজ্ঞা ও চাপ’ সমস্যা সমাধানে সহায়ক নয়; তারা কূটনৈতিক পথের কথা বলেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কড়া হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ঝুঁকিও বাড়তে পারে যাদের কিছু জ্বালানি স্থাপনা এবং পানীয় জলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ইরানের হামলার আওতায় এসেছে।





