উত্তর প্রদেশে ‘গোমূত্র ক্রয় প্রকল্প’—সরকারের উদ্দেশ্য কী?

উত্তর প্রদেশে ‘গোমূত্র ক্রয় প্রকল্প’ শুরু করেছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার
উত্তর প্রদেশে ‘গোমূত্র ক্রয় প্রকল্প’ শুরু করেছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার | ছবি: সংগৃহীত
0

বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিন্দু অধ্যুষিত দেশ ভারতে বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় মেরুকরণের হাতিয়ার হয়েছে গরু। গবাদি এই পশুর উপজাতের সঙ্গে ধর্মীয় ভাবাবেগকে কাজে লাগাতে দ্বিধা করেনি ক্ষমতাসীন বিজেপি। তাই উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার যখন স্বপ্রণোদিতভাবেই গোমূত্র কেনা শুরু করেছে, তখন প্রশ্ন উঠছে এবার কোন রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্য এই প্রকল্পে জোর দিচ্ছে সরকার।

মাতৃসুলভ অবদান, হিন্দুধর্মে ভগবান কৃষ্ণের ছেলেবেলায় রাখাল হিসেবে আত্মপ্রকাশ এবং জীবের প্রতি অহিংসা নীতির থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য গরু অত্যন্ত পবিত্র প্রাণি। দেশ ও সংস্কৃতিভেদে গরুকে ‘গোমাতা’ বা মাতা হিসেবে সম্মান জানানোর রীতি আছে হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিন্দু অধ্যুষিত দেশ ভারতের রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদী চেতনার সঙ্গে খুব নিবিড়ভাবে জড়িত এই গরু। ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সংক্রমণ ঠেকাতে গোমূত্র সেবন নিয়ে জোর প্রচার চালায় বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন ও রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিরা। নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে বড় জমায়েত করে গোমূত্র পানের আয়োজনও দেখা গেছে। আর গেলো এপ্রিলে উত্তরাখণ্ডের বিখ্যাত পঞ্চ গঙ্গোত্রী মন্দিরে তীর্থযাত্রীদের জন্য পঞ্চগব্য বা গোমূত্রসহ গরুর ৫টি পবিত্র উপাদান মিশ্রণ সেবন বাধ্যতামূলক করা নিয়েও ভারতে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।

এবার ভারতের উত্তরপ্রদেশে কৃষকদের কাছ থেকে গোমূত্র সংগ্রহের একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রতি লিটার গোমূত্র কেনা হচ্ছে ১০ রুপিতে। প্রজেক্টটি সফল হলে ভবিষ্যতে প্রতি লিটার গোমূত্র ২০ রুপি দিয়ে কিনবে উত্তর প্রদেশের সরকার।

আরও পড়ুন:

এপিবির খবর অনুযায়ী, বুলন্দশহরের ১৫টি গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ২০০ লিটার ধারণ ক্ষমতার ট্যাংক স্থাপনা করা হয়েছে। প্রতিদিন সংগ্রহ করা হচ্ছে প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র। সংগ্রহে সহযোগিতা করা নারীদের প্রতি লিটারে ২ রুপি করে কমিশনও দিচ্ছে উত্তরপ্রদেশের সরকার।

এই গোমূত্র রাসায়নিক কৃষি উপকরণের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, সেটা নিয়েও কাজ করছে ভারত সরকার। তবে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের মূল উদ্দেশ্য দুধ না দেয়া গরুর বিক্রি ঠেকানো। কারণ গোমুত্র থেকে গরু পালনের খরচ কিছুটা উঠে আসলে গরু হাতছাড়া করবেন না কৃষকরা।

যদিও এ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কোন্দল। নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহ আর হিন্দুত্ববাদী চেতনাকে ভোটব্যাংকে রূপান্তরের উদ্দেশে বিজেপি এ প্রকল্প পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ বিরোধী সমাজবাদী পার্টির।

তবে একটি বিষয় খুব সহজেই অনুমান করা যায়, সমালোচনার পাশাপাশি এই প্রকল্প আদিত্যনাথের কট্টর হিন্দুত্ববাদী ও গো-সেবক ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করতে যাচ্ছে। কারণ, রেন্দ্র মোদির উত্তরসূরি হিসেবে তার নাম রাজনৈতিক মহলে ও গণমাধ্যমে প্রায়ই আলোচনায় আসে যোগী আদিত্যের নাম।

ভারতের কোথাও কোথাও কৃষিকাজে প্রাকৃতিকভাবে মাটি উর্বর করতে ও পোকা দমনে গোমূত্র ব্যবহারের প্রচলন আছে। এছাড়াও ২০১৭ সালে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আইআইটি দিল্লিতে গোমূত্রের ঔষধি গুণ বা কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাইয়ের কাজ হয়েছে। যদিও আশানুরূপ কোনো ফল আসেনি।

এসএইচ