১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর প্রথমে তার দাদা ও দাদিকে তাদের বাসায় গুলি করে হত্যা করে। পরে ননথাবুরির ডেবসিরিন স্কুলে যায়, যেখানে সে পড়াশোনা করত। সেখানে পাঁচ শিক্ষককে গুলি করে হত্যার পর নিজেও গুলি করে আত্মহত্যা করে। পরে আহত এক শিক্ষার্থীও মারা যায় বলে থাই সংবাদমাধ্যম জানায়। পুলিশ কর্নেল থাদসাকর্ন কনথং বলেন, হামলায় ব্যবহৃত বন্দুক ও গুলি কিশোরটির দাদার। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, দাদার শোবার ঘরে অস্ত্রটি খোঁজা হয়েছিল। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দুকটি বৈধভাবে নিবন্ধিত ছিল এবং এর অনুমতিপত্রও ছিল।
থাইল্যান্ডে বেসামরিক মানুষের কাছে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বেসামরিক অস্ত্র মালিকানার দিক থেকে দেশটি শীর্ষ দেশগুলোর একটি। এসব অস্ত্রের মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ অবৈধভাবে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। দেশটিতে অস্ত্র আইন কঠোর। অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে অনুতিন নতুন অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার ওপর স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা এবং অস্ত্র আমদানিতে বিধিনিষেধসহ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন ঘটনা ঘটা উচিত ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু নিহত ব্যক্তিদের জন্য দুঃখিত নই, এই ঘটনা ঘটেছে বলেও দুঃখিত। আমাদের দেশে এটা কীভাবে ঘটতে পারে?’ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে কিশোরটি তার ৭৩ বছর বয়সী দাদা ও ৭৪ বছর বয়সী দাদিকে গুলি করে। দুজনের মাথায় একটি করে গুলি লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন।
এরপর বন্দুক ও কয়েক ডজন গুলি নিয়ে স্কুলবাসে করে স্কুলে যায় কিশোরটি। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে প্রথম ক্লাসে এবং ৯টা ২০ মিনিটে দ্বিতীয় ক্লাসে অংশ নেয় সে। দ্বিতীয় ক্লাস শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টা পর বন্দুক বের করে গুলি চালাতে শুরু করে কিশোরটি। প্রথমে স্কুলের ষষ্ঠ তলায় তিন শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করে সে।
পুলিশ মেজর জেনারেল দেজরাপি কংদে বলেন, পরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় স্কুলের উপপরিচালক ও পরিচালকের সচিবের মুখোমুখি হয় কিশোরটি। পরিস্থিতি দেখতে তারা সিঁড়ি দিয়ে ওপরে যাচ্ছিলেন। সেখানে দুজনকেই গুলি করে হত্যা করে সে। হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ কিশোরটিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পায়। এর আগেই সে নিজেকে গুলি করেছিল বলে জানান দেজরাপি।
হামলায় প্রথমে পাঁচজন নিহত ও অন্তত ২৩ জন আহত হন। পরে থাইল্যান্ডের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ও ব্যাংকক পোস্ট জানায়, আহতদের মধ্যে আরও তিনজন মারা গেছেন। জাতীয় পুলিশপ্রধান জেনারেল কিত্তিরাত ফানফেত বলেন, ফরেনসিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিশোরটির গুলির নিশানা বেশ নিখুঁত ছিল। কয়েকটি গুলি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে লাগে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামলাটি ‘সুস্পষ্ট পদক্ষেপ ও লক্ষ্য’ নিয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের তল্লাশিতে কিশোরটির বিভিন্ন ডিভাইস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে বন্দুক হামলা নিয়ে বেশ কয়েকটি ভিডিও পাওয়া গেছে।পরিবারের সদস্যরা কিশোরটিকে শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের বলে বর্ণনা করেছেন। তার এক চাচা থাই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কিশোরটি বেশির ভাগ সময় ঘরে থেকে সহিংস ভিডিও গেম খেলত এবং খুব কম বাইরে যেত। তবে সে হামলার পরিকল্পনা করছিল—এমন কোনো ইঙ্গিত পরিবার পায়নি। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর কিশোরটি দাদা-দাদির সঙ্গে থাকতো।
১৮৮৫ সালে ব্যাংককে প্রতিষ্ঠিত ডেবসিরিন স্কুল থাইল্যান্ডের অন্যতম শীর্ষ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় স্কুলটির শাখা রয়েছে। কূটনীতিক, ক্রীড়াবিদ ও কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীসহ থাইল্যান্ডের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এই স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী।





