ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ক্রিভি রিহ এলাকায় অবস্থিত এই ইস্পাত কারখানায় সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে অন্তত পাঁচজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। সাবসিডিয়ারি সিইও মাউরো লোংগোবার্দো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি যে কারখানার নিরাপদ ও টেকসই কার্যক্রম চালানো আর সম্ভব নয়।’ এই কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে আর্সেলোরমিত্তাল কোম্পানিকে আনুমানিক ১০০ কোটি ডলারের অবচয় ব্যয় (ইম্পেয়ারমেন্ট চার্জ) গুনতে হবে।
ইউক্রেনের প্রধান বাণিজ্যিক ও রপ্তানি খাত হলো ইস্পাত শিল্প, যা মোট রপ্তানির প্রায় ১৫ শতাংশ জুগিয়ে থাকে। যুদ্ধের ফলে এই খাত চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির মালিকানাধীন মেটইনভেস্ট কোম্পানির দুটি বড় ইস্পাত কারখানাও রুশ হামলায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিইভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার জোরালো বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার কিইভের কেন্দ্রে একটি প্রসূতি ও আবাসিক ভবনে রুশ ড্রোনের আঘাতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে অত্যন্ত বর্বর ও নৃশংস বলে অভিহিত করেছেন। এ ছাড়া কৃষ্ণসাগরের ওডেসা বন্দর এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জাপোরিঝিয়ার একটি চিকিৎসাক্লিনিকেও রুশ হামলা হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে রাতভর হামলা চালিয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই ইউক্রেনে রুশ আক্রমণে অন্তত ২০০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী রাশিয়ার দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে।





