সহিংসতা ও কারচুপির অভিযোগের মধ্যেই কাশ্মীরে ভোটগ্রহণ, দ্বিতীয় ধাপে জয়ী সরকারি দল

কাশ্মীরে ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি
কাশ্মীরে ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি | ছবি: সংগৃহীত
0

ব্যাপক সহিংসতা আর কারচুপির অভিযোগের মধ্যেই, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের দ্বিতীয় ধাপের ভোটে জয়ী সরকারি দল। যদিও পিটিআই ও আর জেএএসির অংশগ্রহণ নেই বলে চলছে ভোট বর্জন। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসলামাবাদের হস্তক্ষেপ আর অর্থনৈতিক অবহেলা নিয়ে ক্ষোভের মধ্যেই সুষ্ঠু নির্বাচনের আকুতি ভোটারদের।

সচরাচর ভারতের জম্মু-কাশ্মীর সংবাদের কেন্দ্রে থাকলেও, সম্প্রতি রাজনৈতিক সংকটের মুখে আজাদ কাশ্মীর। অঞ্চলটিতে কেন্দ্রীয় সরকারের নিষিদ্ধ ঘোষিত জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির নেতৃত্বে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়ায় পরিস্থিতি থমথমে। ব্যাহত নির্বাচন, পরিবহন, ব্যাংকিং, ইন্টারনেটসহ সামগ্রিক জনজীবন।

তিন ধাপের সাধারণ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটে বড় ব্যবধানে এগিয়ে, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন পিএমএলএন। জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত ১৮টি আসনের মধ্যে ১৩টিতেই জয়ী দলটি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পিপিপি জয় পেয়েছে মাত্র পাঁচটি আসনে। সরকারি দলের বিরুদ্ধে ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগ পিপিপির।

পিপিপির সদস্যরা জানান, মুজাফফারাবাদ ও আজাদ কাশ্মীর এমন অবস্থায় নেই যে এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমার মনে হয় না যে নির্বাচন হওয়া উচিত।

জুনে জেএএসিকে নিষিদ্ধের পর থেকেই আজাদ কাশ্মীরে শুরু হয় বিক্ষোভ, রূপ নেয় প্রাণঘাতী সহিংসতায়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৩০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয় বলে দাবি জেএএসির। আজাদ কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসলামাবাদের হস্তক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক অবহেলা নিয়ে ক্ষোভ কয়েক দশকের। এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপক জনসমর্থন আদায় করে জেএএসি। এ অবস্থায় জনজীবনে অস্থিরতা ছড়ানো, সহিংস পরিস্থিতি তৈরিসহ নানা অভিযোগে দলটিকে নিষিদ্ধ করে ইসলামাবাদ। অঞ্চলটিতে বিগত নির্বাচনে জয়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের বর্জন আর নিষিদ্ধ জেএএসির অংশগ্রহণ ছাড়াই হয় ভোট; ভোটার উপস্থিতিও কম।

ভোটাররা জানান, এর কারণ আন্দোলন। নিষিদ্ধ অ্যাকশন কমিটির নেতৃত্বে গত দুই মাস ধরে যে আন্দোলনটি চলছে। অ্যাকশন কমিটির ওপর যে নিপীড়ন ও অত্যাচার চালানো হয়েছিল, সে কারণে মানুষ তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং তাদের হয়ে ভোট বর্জন করছে।

নারী ও ওলামাদের জন্য সংরক্ষিত আটটি আসন বাদ দিয়ে মোট ৪৫টি আসনে তিন ধাপে হচ্ছে ভোট। সরাসরি নির্বাচিত এই আসনগুলোর মধ্যে ১২টি আসন সংরক্ষিত ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর বংশোদ্ভূতদের জন্য, যারা আঞ্চলিক সংবিধানে শরণার্থী হিসেবে সংজ্ঞায়িত। স্থানীয় রাজনীতিতে কারসাজির জন্য এই আসনগুলো অঞ্চলের বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তিদের দিয়ে পূরণ করার অভিযোগও রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।

ভোটাররা জানান, প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদের হাতে পাঁচ বছরের জন্য শাসনব্যবস্থা তুলে দেয়া হচ্ছে। অন্তত সেজন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া উচিত।

এর আগে ২৭ জুলাই প্রথম ধাপের ভোটে ১৩টি আসনের মধ্যে নয়টি আসনে জয়ী হয় পিএমএলএন। পিপিপি পায় চারটি আসন। পুঞ্চে তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১০ আগস্ট।

ইএ