শুক্রবার এক বিবৃতিতে ডিআরসির যোগাযোগ ও গণমাধ্যম মন্ত্রণালয় জানায়, নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৩ হাজার ৫৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত চলা দেশটির ১০ম প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রায় ৩ হাজার ৪৭০ জন। বর্তমান প্রাদুর্ভাব সেই সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ভারপ্রাপ্ত প্রধান কার্ল স্কাউ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা যত ইবোলা মহামারি দেখেছি, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বকে এ ব্যাপারে আরও অনেক বেশি মনোযোগ দিতে হবে।’
দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইবোলায় এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৫৫৬ জনের। এতে মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ। এ ছাড়া ৮০৭ জন রোগী এখনো আইসোলেশন বা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ৬২৬ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
আফ্রিকার শীর্ষ জনস্বাস্থ্য সংস্থা আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এই রোগে আগের প্রাদুর্ভাবগুলোর একই সময়ের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি মানুষের প্রাণ গেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রাদুর্ভাবের চেয়ে বড় ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল কেবল একবারই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া ওই প্রাদুর্ভাবে গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ২৮ হাজার ৬১৬ জন আক্রান্ত ও ১১ হাজার ৩১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
ডিআরসিতে এবারের প্রাদুর্ভাবটি ঘটাচ্ছে ইবোলা ভাইরাসের বিরল ‘বান্দিবুগিও’ প্রজাতি, যার বিরুদ্ধে অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসাব্যবস্থা এখনো নেই। এদিকে পূর্বাঞ্চলীয় ডিআরসিতে অসংখ্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার অভাব ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনার মধ্যেই ইবোলা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিদেশি সহায়তার বড় ধরনের কাটছাঁটের কারণেও সংস্থাগুলোর সম্পদ ফুরিয়ে আসছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কর্তৃপক্ষের প্রতি জনগণের অনাস্থা এবং সচেতনতার অভাব, যা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা তৈরি করছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বুনিয়া শহরের ক্যারিটাস দাতব্য সংস্থার জরুরি বিভাগের প্রধান আঞ্জেল গাপিও বলেন, সচেতনতামূলক প্রচারণা কাজে আসছে না এবং সম্মুখসারির কর্মীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘রোগটি এখন সমাজের ভেতরে বাসা বেঁধেছে। মানুষ প্রচলিত কবিরাজদের কাছেই চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে, ফলে সংক্রমণের ধারা অব্যাহত রয়েছে।’
ডব্লিউএইচও চলতি মাসে জানিয়েছে, সরকারি হিসাবের তুলনায় প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত মাত্রা চার গুণ পর্যন্ত হতে পারে। আফ্রিকা সিডিসি জুনে জানিয়েছিল, এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ১৪০ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে, যা তাদের আগের হিসাবের তিন গুণ। ভাইরাসটি এখন পর্যন্ত ডিআরসির পাঁচটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এগুলো হলো—হাউত-উয়েলে, ইতুরি, উত্তর কিভু, দক্ষিণ কিভু ও শোপো।





