ইসরাইল সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে একজন জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কূটনৈতিক অগ্রগতির খবর প্রচার হলেও হামাসের ‘প্রকৃত নিরস্ত্রীকরণ’ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান অবস্থান থেকে সেনা সরানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তিতে ইসরাইল ‘খুবই খুশি’।
ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এখন বইছে ভিন্ন হাওয়া। আগামী অক্টোবরে দেশটিতে নির্বাচন। একাধিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ইহুদি ইসরাইলি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের পক্ষে। এমন পরিস্থিতিতে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার ও পুনর্গঠনের প্রস্তাব অনেক ইসরাইলির কাছেই অগ্রহণযোগ্য।
ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভির এই চুক্তিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, হামাসের খুনিদের ওপর হামলা বন্ধ করার অর্থ হলো তাদের পরবর্তী গণহত্যার সুযোগ করে দেয়া। তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় গুপ্তহত্যা ও দেশত্যাগে উৎসাহিত করা অব্যাহত রাখতে হবে। ইসরাইলকে অবশ্যই জিততে হবে।’
সাবেক সেনাপ্রধান ও নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটও এই চুক্তির বিষয়ে সন্দিহান। তার মতে, হামাসের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো চুক্তিই হবে ব্যর্থতা।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতির মামলা থেকে বাঁচতে নির্বাচনে জয়ী হওয়া তার জন্য জরুরি। জনমত জরিপে বিরোধী দলগুলো এগিয়ে থাকায় নেতানিয়াহু এখন তার বর্তমান জোট শরিকদের মতামতের ওপরই বেশি নির্ভর করছেন। মার্কিন-ইসরাইলি ভোট বিশেষজ্ঞ ডালিয়া শেইন্ডলিন বলেন, নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চটাতে চাইবেন না, আবার গাজা থেকে সেনা সরিয়ে নিজ দেশের কট্টরপন্থিদেরও ক্ষুব্ধ করতে পারবেন না। ফলে তিনি হয়তো গাজার ভেতরে সেনাদের অবস্থানের কিছুটা ‘প্রতীকী পরিবর্তন’ ঘটিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত রাখার চেষ্টা করতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা পূরণ করাও ইসরাইলের জন্য বড় চাপ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরাইল যদি এই নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি না মানে তবে ট্রাম্প ‘চরম হতাশ’ হবেন। ইউসিএলএ-র অধ্যাপক ডভ ওয়াক্সম্যান বলেন, নেতানিয়াহুর সামনে এখন পাহাড়সমান বাধা। চুক্তিতে রাজি হলে তার জোট ভেঙে যেতে পারে, আর ট্রাম্পের বিরোধিতা করলে নির্বাচনের আগে বড় কোনো মার্কিন সমর্থন পাওয়ার সুযোগ হারাবেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু হয়তো বড় কোনো অনুষ্ঠান করে ট্রাম্পকে খুশি রাখার চেষ্টা করবেন, কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিশ্লেষক নিমরোদ গোরেন মনে করেন, সেনা প্রত্যাহার করা নেতানিয়াহুর আদর্শ ও বিশ্বদর্শনের পরিপন্থী। বরং নির্বাচনের আগে তিনি গাজায় অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন।





