স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলে গৃহহীন স্পেনের বাসিন্দারা মঙ্গলবার ফিরতে শুরু করেন নিজেদের ভিটেতে। বাড়ি ফেরার আনন্দের চেয়ে জেঁকে বসেছে হতাশা; চতুর্দিকে শুধু ছাই, বাতাসে পোড়া গন্ধ।
স্থানীয়রা বলেন, বলতে গেলে সবকিছুই পুড়ে গেছে। আগুন তো রাতেই ছড়িয়ে পড়েছিল। নিজের বাড়িটা পুড়তে দেখাটা ভীষণ কষ্টকর। বড় বড় দাবানলগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলেও স্পেনে এখনও আগুন সক্রিয় আটটি স্থানে। নতুন করে দাবদাহ ছুঁড়ে দিচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জ।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সাঞ্চেজ বলেন, পরিস্থিতি ঘুরতে শুরু করেছে। তাই আগুন নেভানোর লড়াইয়ে আশার আলো দেখতে শুরু করেছি। যদিও একইসঙ্গে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানেও থাকতে হচ্ছে। সামনের দিনগুলো বিশেষভাবে কঠিন হবে। কারণ তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আর একটি নতুন তাপপ্রবাহের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
বুধবার থেকেই চলতি গ্রীষ্মের চতুর্থ দাবদাহের কবলে পড়তে পারে স্পেন এবং প্রতিবেশী ফ্রান্স। স্পেনে দাবানল নিয়ন্ত্রণে এলেও স্বস্তি নেই ফ্রান্সে। জুরান্দ অঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে ফরাসি দমকলকর্মীরা। এর মধ্যেই তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে আবহাওয়ার আভাসে, দাবানল ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে বাড়ছে শঙ্কা।
ফ্রান্সের জুরান্দে অঞ্চলের প্রধান সোফি ব্রোকাস বলেন, দিনরাত এক করে দুই হাজার ৭৫০ দমকলকর্মী লড়ছেন আগুন নেভাতে। একটা একটা করে গাছের আগুন নেভানো হচ্ছে। পানি ফেলার জন্য ২৩টা উড়োযান ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার জুরান্দেতে নতুন করে ১৪টি দাবানল শুরু হয়। তবে আপাতত ঝুঁকিমুক্ত বোর্দোঁ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় এ দাবানলে এ দু'টি অঞ্চল এবং স্পেনে পুড়ে ছাই হয় পৌনে তিন লাখ একরের বেশি এলাকা; কয়েকশো বাড়িঘর। গেলো এক সপ্তাহে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যায় তিন লাখ ৩০ হাজার মানুষ। সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয় কয়েক হাজার পর্যটককে।





