ওয়াশিংটনে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক ঘিরে জল্পনা; ইউক্রেন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু, ডোনাল্ড ট্রাম্প
বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু, ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

হোয়াইট হাউজে একই দিনে নেতানিয়াহু- জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের আলাদা বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জল্পনা- কল্পনা। বিশ্লেষকদের অভিমত, বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে ইতিবাচক আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও ইরান যুদ্ধের জেরে চির ধরা সম্পর্ক পুনরায় জোরদারে চেষ্টা করবেন নেতানিয়াহু। পাশাপাশি, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে ট্রাম্পের সামরিক ও পারমাণবিক চুক্তির পরিকল্পনা যেন যুক্তরাষ্ট্র- ইসরাইলের সম্পর্কে ছেদ ফেলতে না পারে তা নিশ্চিতেও আলোচনা করবেন নেতানিয়াহু। তবে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতেই তার গ্রেপ্তার দাবি করে বিক্ষোভে নেমেছেন ফিলিস্তিনপন্থিরা।

বিশ্বস্ত মিত্র ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ যেন একটি নিয়মিত ঘটনা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য। ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মসনদে বসার পর প্রথম ১ বছরেরই ছয়বার হোয়াইট হাউজে তার সঙ্গে বৈঠকে বসেন নেতানিয়াহু। তবে গেল ফেব্রুয়ারিতে ইরান সংঘাত শুরুর পর আর সাক্ষাৎ হয়নি দুই বিশ্বস্ত মিত্রের।

এছাড়াও, যুদ্ধে নেতানিয়াহুর কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে, বেশ কয়েকবার তাকে কটাক্ষও করেন ট্রাম্প। তাহলে কি দীর্ঘদিনের মিত্র নেতানিয়াহুর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন ট্রাম্প? কূটনৈতিক মহলে এই জল্পনা- কল্পনার মাঝেই মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু।

তবে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখতেই তার গ্রেপ্তারের দাবিতে ওয়াশিংটনে ফিলিস্তিনপন্থিদের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে ও ইসরাইল বিরোধী নানা প্ল্যাকার্ডে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার দাবি করেন তারা।

বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, ‘আইসিসির পরোয়ানা মেনে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা ও ফিলিস্তিনি জনগণের গণহত্যা সংঘটনে তার কৃতকর্মের জন্য বিচার নিশ্চিতে তাকে আন্তর্জাতিক আদালতের হাতে তুলে দেয়া।’

আরও পড়ুন:

তবে বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনে পিছু হটার সুযোগ নেই নেতানিয়াহুর কাছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তা হারানো নেতানিয়াহুর কাছে ট্রাম্পের সমর্থন আদায় অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও, সম্প্রতি তুরস্কের সঙ্গে যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি ও সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির যে পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প, তা যেন ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে ক্ষুণ্ণ করতে না পারে- এটি নিশ্চিতেও আলোচনা করবেন নেতানিয়াহু। পাশাপাশি ওবামার সময় স্বাক্ষরিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল প্রতিরক্ষা সমঝোতার পরিবর্তে একটি নতুন দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির কথা ভাবছে তেল- আবিব।

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সম্প্রতি জি ৭ বৈঠকে কিয়েভকে প্যট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন জেলেনস্কি।

এফএস