বর্ষা সক্রিয় হয়ে উঠছে ভারতজুড়ে, বিশেষ করে দক্ষিণপশ্চিমে। ভারী বৃষ্টি আর ঝড়ের আভাস দিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে দিল্লিসহ ১৭টি রাজ্যে।
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের তথ্য, দুটি নতুন নিম্নচাপ ঘনিয়ে উঠতে থাকায় আগামী কয়েকদিনে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কবলে পড়তে পারে বিভিন্ন অঞ্চল। উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাজস্থানের দক্ষিণপশ্চিম ও সংলগ্ন এলাকায় একটি এবং অপরটি বঙ্গোপসাগরের উত্তরপশ্চিম থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ওড়িশার উত্তর পর্যন্ত বিস্তৃত। ২৪ ঘণ্টায় দুইশো মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ডের পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ আবহাওয়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে পুরো রাজস্থানে। অন্যদিকে, প্রবল বৃষ্টি-বন্যার আভাস দিয়ে রোববার ওড়িষার ছয় জেলায় জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ আবহাওয়া সতর্কতা রেড অ্যালার্ট। অন্যান্য জেলাতেও অরেঞ্জ ও ইয়েলো অ্যালার্ট রয়েছে।
ভারতের আবহাওয়াবিদ ড. সুপ্রিত কুমার বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের উত্তরপশ্চিম থেকে শুরু করে একটি নিম্নচাপের বিস্তৃতি পশ্চিমবঙ্গের উপকূল পর্যন্ত। যার প্রভাবে ২৫ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত ওড়িষায় একাধিক স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের শঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ২৫ ও ২৬ তারিখ কিছু এলাকায় অনেক বেশি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।’
আরও পড়ুন:
অল্প সময়ের ব্যবধানে আবহাওয়া নতুন করে চরমভাবাপন্ন রূপ নিতে শুরু করায়, গেলো দু'দিনে বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয় পশ্চিমের গুজরাট ও দক্ষিণপূর্বের আসাম রাজ্যে। দুই রাজ্যে প্রাণহানি একশো ছাড়ানোর পর পানি নামতে শুরু করেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় আট লাখ মানুষ। গুজরাটের আট জেলায় ২৪ ঘণ্টায় আড়াইশো মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করার পর শনিবার জারি ছিলো রেড অ্যালার্ট, যা রোববার এক ধাপ নামিয়ে আনা হয়েছে। আসামে রয়েছে ভারী বৃষ্টির আভাস।
স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘চারদিন হয়ে গেল আমাদের ঘর ডুবে আছে। মাঝরাতে ঘরবাড়ি ভেসে গেলো। আমরা আর কোথায় যাবো।’
টানা ষষ্ঠ দিনের মতো ভারী বৃষ্টি চলতে থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত উত্তরের জম্মু-কাশ্মীরে। সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার পাহাড়ি ঢলের শঙ্কায় উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা। হিমাচল প্রদেশের ছয় জেলায় অরেঞ্জ ও সাত জেলায় ইয়েলো অ্যালার্ট জারি রয়েছে। প্রবল বর্ষণের জেরে ভূমিধসে যানচলাচল বন্ধ রাজ্যের ১৩৪টি সড়কে। এছাড়া দিল্লিতে ইয়েলো অ্যালার্ট এবং ভারী বৃষ্টির আভাস মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মনিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গের গাঙ্গেয় অঞ্চল, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, ঝাড়খান্ড, কেরালা ও কর্ণাটকে।
এদিকে, বছরের ১২তম টাইফুন আঘাত হেনেছে ভারতের প্রতিবেশী দেশ চীনে। রোববার ভোররাতে ১০ বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হয়ে দক্ষিণের গুয়াংদং প্রদেশে আঘাত হানে টাইফুন নৌল। ঝড়ের প্রভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে ফুজিয়ান, জিয়াঞ্জি, ও হুনান প্রদেশ। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে সাড়ে তিন লাখ মানুষকে। বাতিল হয়েছে কয়েকশ' ফ্লাইট।

 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)



