বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলা নয়: অনশন প্রত্যাহারে ওয়াংচুকের শর্ত

জলবায়ুকর্মী সোনম ওয়াংচুক
জলবায়ুকর্মী সোনম ওয়াংচুক | ছবি: সংগৃহীত
0

নিট (এনইইটি) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে চলমান অনশন প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছেন জলবায়ুকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বুধবার তিনি জানান, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) পদযাত্রায় অংশ নেয়া বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে না এই নিশ্চয়তা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে পেলেই তিনি অনশন ভাঙবেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংকে লেখা এক চিঠিতে ওয়াংচুক তাদের সাক্ষাৎ এবং তার আগের দাবিগুলো সরকার বিবেচনা করবে বলে দেয়া আশ্বাসের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

চিঠিতে ওয়াংচুক লেখেন, ‘গতকাল রাতে হাসপাতালে আমাকে দেখতে আসা এবং অনশন ভাঙার আন্তরিক অনুরোধের জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমাদের আলোচনায় আপনারা আশ্বস্ত করেছেন যে, সরকার নিম্নলিখিত বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে: পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের পর আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ। জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংসদে অর্থবহ আলোচনা, যার মধ্যে থাকবে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টিও।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের অকথ্য নির্যাতন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগ সত্ত্বেও ২০২৬ সালের ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রা পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ ছিল। গোটা জাতি ও বিশ্ব দেখেছে, তাদের ধৈর্য এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের প্রতি প্রতিশ্রুতি। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, এই আন্দোলনে অংশ নেয়া কারও বিরুদ্ধে কোনো মামলা, হয়রানি বা প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি এই আস্থাকে আর ভূলুণ্ঠিত করা হবে না।’

ওয়াংচুক জানান, তিনিও অনশন ভেঙে ‘বাঁচতে’ চান। তবে যাদের জন্য এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেই তরুণদের বিসর্জন দিয়ে নয়। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সাক্ষাতের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় ৬৫ জন সংসদ সদস্য আমাকে চিঠি লিখেছেন। কয়েকজন এসেছেন, অন্যরা আজ সন্ধ্যায় আসবেন বলে আশা করছি। তারা সবাই আমাকে অনশন ভাঙার অনুরোধ করেছেন এবং মনে করিয়ে দিয়েছেন, দেশের সেবায় আমার আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। আমি তাদের সঙ্গে একমত। আমি বাঁচতে চাই। আমি আমার শিক্ষার্থীদের কাছে, শিক্ষাক্ষেত্রে এবং আমার জীবনকে সংজ্ঞায়িত করা কাজে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু যাদের জন্য এই আন্দোলন শুরু হয়েছে, সেই তরুণদের বিসর্জন দিয়ে আমি তা করতে পারি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাই আমি শ্রদ্ধাভরে সরকারের কাছ থেকে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা চাই যে, এই আন্দোলনে অংশ নেয়ায় কোনো তরুণ প্রতিবাদকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা প্রতিহিংসামূলক আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে না। তাদের একমাত্র ‘‘অপরাধ’’ ছিল একটি ন্যায্য ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য কণ্ঠস্বর তোলা। এই নিশ্চয়তা দেয়া হলে সরকার শুধু আমার আবেদনই নয়, লাখ লাখ তরুণ ভারতীয়র প্রত্যাশাও শুনেছে এই বিশ্বাস নিয়ে আমি আমার অনশন ভাঙব। এই ধরনের নিশ্চয়তা না পেলে আমি অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন চালিয়ে যেতে বাধ্য হব। আমি এটাও আশা করি, আন্দোলন দমন করতে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ আর হবে না।’

এএম