ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হতাশার মধ্যেই এই অনুষ্ঠান হলো। এই যুদ্ধে মার্কিন করদাতাদের অন্তত ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৪৫০ জনের বেশি সেনা। এই যুদ্ধে হাজার হাজার ইরানি নিহত হয়েছেন।
রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই এই যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণও নেই। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেছেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই আনুষ্ঠানিকতার জন্য ডেলাওয়্যারের ডোভার বিমানঘাঁটিতে যান। যাত্রার আগে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সম্মান জানাব। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি আমার সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। কিন্তু এটি করতে হবে।’ নিহত সেনাদের পরিবারকে কী বলবেন জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি শুধু এটুকু বলব যে, আমরা আপনাদের ভালোবাসি। আপনাদের সন্তানকে ভালোবাসি। তাদের কাছে তারা তো এমনটাই তারা তাদের সন্তান। এখানে কোনো খেলা নেই, কিছুই নেই।’
যুদ্ধ বা সংঘাতের সময় ডোভারে অনুষ্ঠিত এই গুরুগম্ভীর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নিয়মিত যোগ দেন। ডোভারেই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক শবাগার অবস্থিত।
গত শুক্রবার জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটির ব্যারাকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ঘুমন্ত অবস্থায় নিহত হন তিন মার্কিন সেনা। তারা হলেন—২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান, ২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস রামপারসাদ এবং ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস। তারা তিনজনই মার্কিন সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্রিগেডের সদস্য ছিলেন। চতুর্থ নিহত সেনা ৩০ বছর বয়সী সার্জেন্ট মাইকেল এমানুয়েল সুইন্টন রোববার ইরাকের ইরবিলে আলাদা এক ঘটনায় মারা যান। একটি হামলাকারী ড্রোন নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটানোর সময় এই ঘটনা ঘটে।
পেন্টাগন সোমবার জানিয়েছে, গত ৭ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ১০০ জন সেনা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯৬ শতাংশ সেনা কাজে ফিরেছেন।
চলতি মাসে পরিচালিত রয়টার্স/ইপসোসের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন মার্কিনের চারজনই মনে করেন এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে। উত্তরদাতাদের মাত্র ৩৭ শতাংশ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি চলে এসেছে। রিপাবলিকান কৌশলবিদেরা সতর্ক করে দিয়েছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ট্রাম্পের কর কমানোর রাজনৈতিক সুবিধা ম্লান করে দিয়েছে।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং সম্ভবত সিনেটের নিয়ন্ত্রণও হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।





