শনিবার সন্ধ্যায় নিয়মিত ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘সেনাবাহিনী নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ তিনি চলমান অস্থিরতার কথা স্বীকার করে জানান, গত দুই দিনে এ নিয়ে অনেক আলোচনা ও পরামর্শ হয়েছে। জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘অবশ্যই, মানুষ কী বলছে আমি তা শুনতে পাচ্ছি।’ তিনি বর্তমান সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি এবং পদচ্যুত মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরোভ—উভয়ের সঙ্গেই কথা বলেছেন বলে নিশ্চিত করেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক সরকারি রদবদলে ফেদোরোভকে সরিয়ে দেয়া হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে যে জাতীয় ঐক্য বজায় ছিল, এই প্রথম তাতে বড় ধরনের ফাটল ও প্রকাশ্য জনরোষ দেখা গেল।
৩৫ বছর বয়সী মিখাইলো ফেদোরোভ মাত্র ছয় মাস প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তবে এই অল্প সময়েই তিনি সামরিক বাহিনীতে একজন সংস্কারক হিসেবে পরিচিতি পান। ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আধুনিকায়নের পক্ষে সোচ্চার এই নেতা সংস্কারের গতি ও দিক নিয়ে সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কির সঙ্গে বারবার বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তাদের এই দ্বন্দ্ব সামরিক কমান্ড কাঠামোতে অস্থিরতা তৈরি করেছিল।
দায়িত্ব থেকে সরানোর এক দিন পরই ফেদোরোভ এক সংবাদ সম্মেলনে সিরস্কির বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সেনাপ্রধান দেশকে বিভক্ত করছেন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অনমনীয়তার সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সিরস্কির কমান্ডের অধীনে ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে জিততে পারবে কি না।
এর জবাবে ৬০ বছর বয়সী সিরস্কি বলেন, এখন মূল মনোযোগ থাকা উচিত ‘যুদ্ধ এবং একটি কার্যকর কৌশলের ওপর, যা বর্তমানে সুনির্দিষ্ট ফলাফল দিচ্ছে।’ উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শুরুতে অত্যন্ত জনপ্রিয় জেনারেল ভ্যালেরি জালুঝনির স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন সিরস্কি। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে তার সিদ্ধান্ত ও পরিচালনার ধরন নিয়ে আগে থেকেই সমালোচনা ছিল।
কিয়েভের রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা ‘লজ্জা’ এবং ‘ফেদোরোভ’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ড হাতে তারা সেনাপ্রধানের পদত্যাগও দাবি করছেন। কিয়েভ ছাড়াও অন্যান্য বড় শহরে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে। ফেদোরোভ তার প্রথম প্রতিক্রিয়ায় টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘আশার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আলোচনা চলছে। আমি বিশ্বাস করি সব ঠিক হয়ে যাবে।’
এমন সময় এই অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি হল যখন ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার অভ্যন্তরে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে এই গতির মধ্যেই জনরোষ ও দ্বিধাবিভক্ত সামরিক কমান্ডের মাঝখানে পড়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এখন কঠিন চাপের মুখে পড়েছেন।





