নাউসেদা জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ দেশের জ্বালানি ও পরিবহনব্যবস্থা এবং ইউরোপীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। লিথুয়ানিয়ার বার্তা সংস্থা বিএনএসকে তিনি বলেন, ‘এমন তথ্য আমাদের কাছে আছে, তা আমি অস্বীকার করব না। এসব সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।’ তবে হামলার নির্দিষ্ট স্থান বা সময় সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যে কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
লাটভিয়ার প্রেসিডেন্ট এডগারস রিঙ্কেভিচও একই দিন সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেন যদি রাশিয়ার ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে, তবে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে পাল্টা হামলা চালাতে পারে মস্কো। ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ৫-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের পূর্ণ বিজয় ছাড়াও পরোক্ষভাবে অনুচ্ছেদ ৫ এবং ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাকে পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে রাশিয়া। আগামী কয়েক মাস, এমনকি আগামী ১২ মাস, বাল্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত তিনটি বাল্টিক দেশ—লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া এবং পোল্যান্ড রুশ হুমকি মোকাবিলায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এসব দেশের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে রুশ হাইব্রিড হামলার শিকার। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ হামলার পর এই হুমকি আরও বেড়েছে।
তবে ক্রেমলিন এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা নতুন ভয় দেখানোর কৌশল ছাড়া কিছু নয়। বাল্টিক অঞ্চলে ন্যাটোর সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণকে ন্যায্যতা দিতেই এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এর জন্য তাদের একটি শত্রু চিত্র দাঁড় করাতে হচ্ছে, আর সেই শত্রু বানানো হচ্ছে আমাদের।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পোল্যান্ডের রাজনীতিবিদরাও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পোলিশ সংবাদমাধ্যম ওনেট ডটপিএল জুন মাসের শেষ দিকে জানিয়েছিল, মার্কিন গোয়েন্দারা তাদের পোলিশ সহকর্মীদের রুশ হামলার আশঙ্কার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। এই সম্ভাব্য হামলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাত, সীমান্তবর্তী এলাকায় রুশ সেনার অনুপ্রবেশ ও ড্রোন অভিযান রয়েছে। পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক গত ৩ জুলাই বলেছেন, এই সতর্কবার্তাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।





