২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কা প্রথম উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছিল। পরে সংস্কার কর্মসূচি শিথিল হয়ে পড়া এবং সংকট গভীর হওয়ার কারণে দেশটি সেই অবস্থান হারায়। ফলশ্রুতিতে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে খেলাপি রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত হয় শ্রীলঙ্কা। দেউলিয়া হয়ে পড়ে গোটা দেশ।
এবার তিন বছরের মাথায় সবাইকে অনেকটা অবাক করে দিয়েই বিশ্বব্যাংক পুনরায় শ্রীলঙ্কাকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু অনেকেরই প্রশ্ন, এত অল্প সময়ে কিভাবে ঘুরে দাঁড়ালো দেশটির অর্থনীতি।
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো জাদুর মন্ত্রে শ্রীলঙ্কা এ অবস্থানে আসেনি। পুরোপুরি দেউলিয়া হওয়ার পথ থেকে উদ্ধার পেতে দেশটির শেষ ভরসা ছিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বেশকিছু আলোচনার পর আইএমএফ শ্রীলঙ্কাকে ৩ বিলিয়ন ডলারের এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি বা ইএফএফ অনুমোদন করে।
তবে এ অর্থায়ন কোনো দান ছিলো না। ছিলো কঠোর শর্তসাপেক্ষ ঋণ অর্থাৎ সরকারি ব্যয়ে রাশ টানা। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে গ্রহণ করতে হয় কঠোর মুদ্রানীতি। মূলত সুদের হার বাড়ানো এবং মুদ্রার যোগান কমানো—যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। শ্রীলঙ্কা এ কঠিন বাস্তবতা মেনে নেয় কারণ এর কোন বিকল্প ছিলো না।
তবে আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নে শ্রীলঙ্কার সরকার নামে কঠিন সংস্কারে। রাজস্ব ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে তারা বাস্তবায়ন করে কর সংস্কার। করের আওতা বাড়ানো হয়, বহুল আলোচিত ভ্যাট বাড়ানো হয় এবং নতুন নতুন কর ধারা প্রবর্তন করা হয়, যাতে রাজস্বের ভিত্তি বিস্তৃত হয়। অপরদিকে, লোকসানি ভর্তুকি বন্ধ করতে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থায় আনা হয় যৌক্তিকতা।
একই সঙ্গে কমিয়ে আনা হয় সরকারি অকার্যকর ব্যয়। এসব সংস্কারের ফলে বর্তমানে ধীরে ধীরে ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে, রিজার্ভ বাড়ছে এবং বিদেশি মুদ্রা অর্জনের পথও প্রশস্ত হচ্ছে।
এছাড়াও, সঠিক পরিকল্পনা, বিনিয়োগ ও পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে গেল তিন বছরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশটির পর্যটন খাতও। গেল বছর বিশ্বের শীর্ষ ভ্রমণ গন্তব্যের তালিকায়ও উপরের দিকেই ছিল শ্রীলঙ্কা। আর পর্যটন খাত থেকে দেশটির গেল বছরের আয় ছিল ৩শ ২২ কোটি ডলারের বেশি। এসব কারণেই ধরেই ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে শ্রীলঙ্কা। তবে আগামী কয়েক বছর এই পথচলা কেমন হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে বিশ্ববাসী।

 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)



