যন্তর মন্তরে সিজেপির অনশন; সমর্থন জানিয়ে মাঠে সোনাম ওয়াংচুক

শিক্ষা সংস্কারক এবং জলবায়ু কর্মী সোনাম ওয়াংচুক অনশন করছেন
শিক্ষা সংস্কারক এবং জলবায়ু কর্মী সোনাম ওয়াংচুক অনশন করছেন | ছবি: সংগৃহীত
0

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দেয়ার গুঞ্জনের মধ্যেই তার পদত্যাগের দাবিতে অনশনে বসেছে ককরোচ জনতা পার্টি। যুব সংগঠনটির এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা দীপকের সঙ্গে অনশন করছেন ভারতের জনপ্রিয় শিক্ষা সংস্কারক ও জলবায়ু কর্মী সোনাম ওয়াংচুক।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জেরে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দুই সপ্তাহব্যাপী অবস্থান ধর্মঘটে নেমেছেন দেশটির যুব সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে অনশন করছেন দেশটির জনপ্রিয় শিক্ষা সংস্কারক এবং জলবায়ু কর্মী সোনাম ওয়াংচুক।

সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দীপক বলেন, ‘জনগণের সাড়া সত্যিই অসাধারণ। আমরা এখানে যত বেশি সময় ধরে বসে থাকছি, তত বেশি মানুষ আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। এমনকি বিহার, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, কেরালার মতো রাজ্যগুলো থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছেন। তারা বলছেন, আমরা এখানে আছি। আপনি পিছু হটবেন না। আমরা চাই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আপনি এই প্রতিবাদ চালিয়ে যান।’

ভারতের শিক্ষা সংস্কারক সোনাম ওয়াংচুক বলেন, ‘আমি আশা করছি এই বিষয়ে জবাবদিহিতা থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে তারা দাবি করে আসছে, মন্ত্রী অথবা সরকার যেন জবাবদিহি করে। একইভাবে, লাদাখের সংলাপও যেন আবার সঠিক পথে ফিরে আসে। আমার জন্য, শিক্ষা এবং পরিবেশ সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সত্য ও অহিংসা আমার পথ। ন্যায়বিচার আমার লক্ষ্য। তাই আমি তাদেরকে এবং লাদাখকে সমর্থন করছি।’

সরকারের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত সোনাম ওয়াংচুক গত বছর হিমালয় অঞ্চলের কেন্দ্রশাসিত লাদাখের রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে সহিংস বিক্ষোভের পর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

যন্তর মন্তরে সিজেপি এমন সময় এই বিক্ষোভ শুরু করেছে যখন চারপাশে গুঞ্জন উঠেছে, সরকার মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল করবে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, শিক্ষামন্ত্রীকে তার দপ্তর থেকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে। যদিও ধর্মেন্দ্র প্রধান বা সরকার পক্ষ এ নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি।

ভারতের শিক্ষা সংস্কারক সোনাম ওয়াংচুক বলেন, ‘আশা করি সরকার বিষয়টি আমলে নেবে। একটি সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের দুঃখ-কষ্ট শোনে। আমি আশা করি তারা ব্যবস্থা নেবে। সংসদের অধিবেশনে যেন এই বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করা হয়। সমাধান খুঁজে বের করা হয়। এর আগে সরকার যদি জবাবদিহি না করে, তাহলে আমরা বিষয়টি সেই পর্যায়ে নিয়ে যাব।’ 

অনশনের মঞ্চ থেকে অভিজিৎ দীপকে বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য তারা অপেক্ষা করছে। মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন সত্য হলে তারা পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
নিজেদেরকে অলস, বেকার এবং চিরস্থায়ীভাবে সঠিক মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে বর্ণনাকারী সিজেপি খুব দ্রুতই অনলাইনে প্রায় ২০ লাখ অনুসারী জোগাড় করে ফেলে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ তরুণরা আন্দোলনে নামার পর ২৩ লাখ পরীক্ষার্থীর মেডিকেল কলেজ পরীক্ষা বাতিল করা হয়।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরিবহনের জন্য সামরিক বিমান মোতায়েন করা হয়। অনলাইন মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর পরীক্ষাটি দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের দাবি, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়।

আরেকদিকে এরইমধ্যে বিজেপির সমালোচনার মুখে পড়েছে সিজেপি। ককরোচ পার্টিকে ভাইরাস উল্লেখ করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন অভিযোগ করেন, সংগঠনটি দেশকে অন্তঃসারশূন্য করে দিতে পারে। তার দাবি, ভারত-বিরোধী চক্র সিজেপিকে একমাত্র বিজেপি কর্মীরাই উচিত শিক্ষা দিতে পারে।

এএম