যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ মামলায় চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার ছিল নিষেধাজ্ঞা: আইসিসি বিচারকরা

আইসিসির লোগো
আইসিসির লোগো | ছবি: আল জাজিরা
0

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তিন বিচারক। গত বছর তাদের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি বলে দাবি করে গতকাল (বুধবার, ২৪ জুন) ম্যানহাটানের একটি ফেডারেল আদালতে এই মামলা করা হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মামলাকারী তিন বিচারক হলেন কানাডার কিম্বার্লি প্রস্ট, উগান্ডার সোলোমি বালুঙ্গি বোসা এবং বেনিনের রেইন অ্যাডিলেইড সোফি আলাপিনি-গানসু। তাদের অভিযোগ, এই নিষেধাজ্ঞা বিচারকদের শাস্তি দিতে এবং চাপের মুখে ফেলতে নেয়া হয়েছিল। বিচারকরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সংশ্লিষ্ট যুদ্ধাপরাধের মামলা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তকে কেন্দ্র করে তাদের ওপর এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর আইসিসির কয়েকজন বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর পেছনে ছিল ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সিদ্ধান্ত এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত। নিষেধাজ্ঞার ফলে বিচারকদের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্পদ ও অর্থসম্পদ অবরুদ্ধ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন, পণ্য বা সেবা প্রদান করতে পারে না।

আইসিসি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সদস্যরাষ্ট্রে সংঘটিত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার করার এখতিয়ার রাখে। যদিও আদালতের সদস্য ১২৫টি দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইসরাইল এর এখতিয়ার স্বীকার করে না। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি ফাতু বেনসুদা এবং তার এক সহকারীর ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

বর্তমান মামলায় বিচারকরা যুক্তি দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন বা আইইইপিএর সীমা ছাড়িয়ে গেছে এই পদক্ষেপ। তাদের মতে, এটি কোনো প্রকৃত জাতীয় জরুরি অবস্থা বা অসাধারণ হুমকির ভিত্তিতে নেয়া হয়নি। মামলায় বলা হয়েছে, বিচারকদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থকে নিশানা করে তাদের আগের রায়গুলোর জন্য শাস্তি দিতে এবং ভবিষ্যতে আইনের বদলে ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা মাথায় রাখতে বাধ্য করতেই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে বিচারকরা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, ব্যাংকিং সেবা, অ্যামাজন ও গুগলের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, ভ্রমণ বুকিং, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমাও পাচ্ছেন না।

এএম