বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভুয়া বিল বা দাবির মাধ্যমে সাড়ে ৬০০ কোটি ডলারের জালিয়াতি করেছেন, যা রোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার, ২৩ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ‘এটি কেবল শুরু। জালিয়াতরা আর আমেরিকান করদাতাদের অর্থ আত্মসাৎ করতে পারবে না। আপনারা যদি আমেরিকানদের ক্ষতি বা প্রতারণা করার চেষ্টা করেন, তবে আমরা আপনাদের খুঁজে বের করব, সম্পদ জব্দ করবো এবং আইনের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করবো।’
এই জালিয়াতির ভয়াবহতা বোঝাতে কর্মকর্তারা কাইডেন ফ্রান্সিস নামের ১৮ বছর বয়সি এক কলেজ বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের মৃত্যুর উদাহরণ দেন। অভিযোগ রয়েছে, একজন চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীর হৃদযন্ত্রের সমস্যা থাকার পরও পরীক্ষা ছাড়াই তাকে সুস্থ বলে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। এর কয়েক সপ্তাহ পরেই শরীরচর্চার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কাইডেন মারা যান।
এবারের এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি অঙ্গরাজ্য অংশ নিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র জানিয়েছেন, এটি বিচার বিভাগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিযানগুলোর একটি। তবে ডেমোক্র্যাট শাসিত বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড জালিয়াতি দমনে কড়াকড়ি করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট গভর্নররা।
সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস-এর প্রধান ডা. মেহমেত ওজ এই জালিয়াতি বন্ধে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনেডি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি শুধু করদাতাদের অর্থই চুরি করে না, বরং অসহায় রোগীদের শোষণ করে তাদের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।’ জালিয়াতির উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে অ্যারিজোনার একটি প্রতিষ্ঠানের ২ বিলিয়ন ডলার এবং টেক্সাসের একটি প্রতিষ্ঠানের ৯০৬ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া দাবির বিষয়টি উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় এক হসপিস মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি মৃত ব্যক্তিদের তথ্য জোগাড় করে কয়েক দিনের ভুয়া সেবা দেখিয়ে বিল তুলে নিতেন।





