‘ইরান চুক্তি’ নিয়ে মিত্রদের প্রশ্নের মুখে মার্কো রুবিও; দুবাই দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরু

মার্কো রুবিও
মার্কো রুবিও | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি চুক্তি নিয়ে আরব মিত্রদের দুশ্চিন্তা ও সংশয় দূর করতে মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরু করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিন দিনের এই সফরের শুরুতে গতকাল (মঙ্গলবার, ২৩ জুন) গভীর রাতে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে পৌঁছান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তেহরানকে ৩শ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল দেয়াসহ নানা ‘অত্যধিক ছাড়’ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমন করাই রুবিওর এই সফরের মূল লক্ষ্য।

গত সপ্তাহে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হওয়া চুক্তির পর এটিই রুবিওর প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক মিশন। আবুধাবিতে পৌঁছে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, মিত্রদের অস্বস্তির বিষয়টি অবশ্যই আলোচনায় আসবে। এছাড়া সমঝোতা স্মারকে নেই এমন অন্যান্য আঞ্চলিক ইস্যু নিয়েও কথা হবে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান সংক্রান্ত আলোচনায় রুবিওর উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে; বরং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সই সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এক সময় ইরানের কড়া সমালোচক বা ‘হক’ হিসেবে পরিচিত রুবিও এখন কীভাবে এই চুক্তির পক্ষে সাফাই গাওন, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির অনেক আইনপ্রণেতা এই চুক্তিকে তেহরানের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ বলে অভিহিত করেছেন। রুবিও ও ভ্যান্স—উভয়কেই ২০২৮ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে, তাই এই কূটনৈতিক মিশন রুবিওর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্যও একটি বড় পরীক্ষা।

উপসাগরীয় নেতারা যুদ্ধের সময় শান্তির আহ্বান জানালেও চুক্তির শর্তগুলো তাদের অবাক ও হতাশ করেছে। তাদের প্রধান ভয় হলো, ইরান এই ৩শ বিলিয়ন ডলার তাদের সামরিক শক্তি বাড়াতে ব্যবহার করবে। এছাড়া চুক্তিতে ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কোনো বিধিনিষেধ নেই, যা আরব্য দেশগুলোর জন্য বড় হুমকি। যুদ্ধের সময় এই দেশগুলোর সবকটিই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল।

রুবিও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত সফর করবেন। উভয় দেশেই গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং যুদ্ধে সেখানে ইরানি হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। বিশেষ করে আমিরাত চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে; যুদ্ধের কারণে দেশটির অ-তেল অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে পরিচিত হাজার হাজার বিদেশি কর্মী আমিরাত ছেড়ে পালিয়েছে। সম্প্রতি রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ইরান ইরাকে গোপন সেল গঠন করে কুয়েত ও আমিরাতে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। এমন বৈরী পরিস্থিতিতে রুবিওর কাজ হবে মিত্রদের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।

এএম