সাত বছরে পাঁচ প্রধানমন্ত্রী: ব্রিটিশ রাজনীতিতে কেন এই অস্থিরতা?

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীদের কোলাজ
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীদের কোলাজ | ছবি: এআই জেনারেটেড
0

যুক্তরাজ্যের সমসাময়িক রাজনীতিকে সংখ্যার হিসেবে বিশ্লেষণ করলে এক অস্থির চিত্র ফুটে ওঠে। গত সাত বছরে দেশটিতে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, যাদের কেউই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। একই সময়ে সাতজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ছয়জন অর্থমন্ত্রী বদল হয়েছেন। এখন বড় জয়ের পর ক্ষমতায় আসা কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের গুঞ্জন সেই অস্থিরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, ব্রিটেন কি দিন দিন ‘অশাসন যোগ্য’ হয়ে পড়ছে? ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনোক—উভয়ই সংসদ অধিবেশনে দেশ অশাসন যোগ্য হওয়ার দাবি নাকচ করেছেন। তবে বাস্তবতা হলো, ব্রিটিশ রাজনীতিকরা সাম্প্রতিক সময়ে ‘নেতা পরিবর্তনের’ খেলায় মেতে উঠেছেন। একদিকে প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় জটিলতা নীতি বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে, অন্যদিকে ভোটাররা দ্রুত ফলাফলের জন্য অধৈর্য হয়ে পড়ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৮ সালের আর্থিক মন্দা, ব্রেক্সিট নিয়ে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, করোনা মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জ্বালানি সংকটের মতো বিষয়গুলো যেকোনো প্রজন্মের নেতার জন্যই কঠিন পরীক্ষা। ইনস্টিটিউট ফর গভর্নমেন্টের প্রধান নির্বাহী হান্না হোয়াইট মনে করেন, ব্রিটেন অশাসন যোগ্য নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলো এমন সব নেতাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে যাদের সংকটের সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো দক্ষতা ছিল না। ঐতিহাসিক স্যার অ্যান্থনি সেলডনও মনে করেন, বরিস জনসন বা লিজ ট্রাসের মতো নেতার কাজে অভিজ্ঞতার ঘাটতি ও নম্রতার অভাব ছিল।

আরও পড়ুন:

নেতৃত্বের সংকটের পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকেও দায়ী করছেন অনেকে। স্বয়ং কিয়ার স্টারমার অভিযোগ করেছেন যে, কোনো পদক্ষেপ নিতে গেলে অসংখ্য নিয়মকানুন ও স্বাধীন সংস্থা বা ‘আর্মস লেংথ বডি’র বাধার মুখে পড়তে হয়। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব রাজনীতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এখন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেই দ্রুত বিদ্রোহ দানা বাঁধে, যা সামলানো মন্ত্রীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

আর্থিক সীমাবদ্ধতাও ব্রিটিশ সরকারকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। এক সময় শাসকরা কর কমিয়ে বা জনকল্যাণে অর্থ ব্যয় করে সংকট সামাল দিতেন। কিন্তু বর্তমানে উচ্চ ঋণ ও স্থবির অর্থনীতির কারণে সেই সুযোগও সীমিত। ব্রেক্সিট পরবর্তী সুদিনের যে প্রতিশ্রুতি কনজারভেটিভরা দিয়েছিল বা লেবার পার্টি যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বপ্ন দেখাচ্ছে—তার কোনোটিই বাস্তবে ধরা না দেয়ায় ভোটারদের মধ্যে মোহভঙ্গ হচ্ছে।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জন মেজর মনে করেন, ভোটাররা এখন জটিল সমস্যার খুব সহজ ও দ্রুত সমাধান চান। কিন্তু সরকারগুলো এখন ‘না’ বলার সাহস হারিয়ে ফেলেছে। এই আকাশচুম্বী প্রত্যাশা আর রূঢ় বাস্তবতার মধ্যবর্তী বিশাল ব্যবধানই ব্রিটেনকে রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল করে তুলছে।

এএম