ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে অভিযানে যাওয়া দুটি মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হয়। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। শত্রুপক্ষের হাতে ধরা পড়া এবং গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেদের বিমান দুটি ধ্বংস করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ইরান বলছে, উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া বেশ কয়েকটি মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত করেছে তারা। যার মধ্যে দুটি সি-১৩০ মডেলের পরিবহন বিমান ছিল।
গেল শুক্রবার ভূপাতিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-ফিফটিন ই যুদ্ধবিমানে একজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে অভিযানে নামে মার্কিন বিশেষ বাহিনী। জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় বেশ কয়েকটি সি-ওয়ান থ্রি জিরো মডেলের সুপার হারকিউলিস বিমান। এর মধ্যে দুটি বিমান ইরানের প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে আটকা পড়ে। এরপরই তা বিধ্বস্ত হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এক প্রতিবেদনে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষের ফুটেজ সম্প্রচার করেছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর দুটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে ইরান।
বহুমুখী সক্ষমতার কারণে সি-১৩০ সুপার হারকিউলিস বিমানকে অনেক সময় উড়ন্ত দুর্গ বলা হয়। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে এটি দুর্গম ও স্বল্প দৈর্ঘ্যের রানওয়েতে ওঠানামা করতে পারে। এছাড়া, বড় আকারের সেনা, অস্ত্র ও সরঞ্জাম বহনে সক্ষম এবং বিশেষ অভিযানে দ্রুত মোতায়েন ও উদ্ধার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে এই ধরনের বিমানগুলো গোপন অভিযান, উদ্ধার এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহের মতো জটিল কাজে ব্যবহৃত হয়।
এ ঘটনায় দুই পক্ষের ভিন্ন দাবির পেছনে তথ্য যুদ্ধ বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান তার সামরিক সাফল্য দেখাতে বিমান ভূপাতিতের দাবি করছে। অন্যদিকে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে নিজস্ব ব্যাখ্যা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)



