ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষোভে নতুন সংকটে ন্যাটো

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: রয়টার্স
0

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক চাপ ও কটাক্ষ—সব সামলে টিকে ছিল ন্যাটো জোট। ট্রাম্প জোটের মূল উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিও দিয়েছেন। তবে এবার ইউরোপ থেকে হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধই ৭৬ বছরের এই জোটকে প্রায় ভেঙে দিয়েছে বলে বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা মনে করছেন। তাদের মতে, এতে ন্যাটো গঠনের পর সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ২৮ ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকাশযুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপের দেশগুলো বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে নৌবাহিনী পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোয় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প এখন জোট থেকে সরে আসার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। বুধবার রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আপনি হলে কি তা-ই করতেন না?’

গত বুধবার রাতে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সমালোচনা করেন, তবে অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা অনুযায়ী ন্যাটোকে সরাসরি নিন্দা করেননি। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপীয়দের লক্ষ্য করে তার আরও কিছু কটাক্ষের সঙ্গে মিলিয়ে তার বক্তব্যে এমন উদ্বেগ তৈরি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর হামলা হলে তাদের পাশে আর দাঁড়াবে না, এমনকি যদি ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটো জোট না ছাড়ে তারপরেও।

বিশ্লেষক ও কূটনীতিকদের মতে, স্নায়ু যুদ্ধের সময় গঠিত এবং ইউরোপের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করা এই জোট এখন ক্ষয়ে যাচ্ছে। এর কেন্দ্রে থাকা পারস্পরিক প্রতিরক্ষার চুক্তিও আর আগের মতো স্বতঃসিদ্ধ বলে ধরা হচ্ছে না।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ইউরোপ, রাশিয়া ও ইউরেশিয়া কর্মসূচির প্রধান এবং সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কর্মকর্তা ম্যাক্স বার্গম্যান বলেন, ‘এটাই ন্যাটোর প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে খারাপ অবস্থান।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর কাছাকাছি কিছু কল্পনা করাও কঠিন।’

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে এই বাস্তবতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে আরও রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে ন্যাটোর ওপর নির্ভর করে আসছে।

ফেব্রুয়ারি পর্যন্তও ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইউরোপের নিজেদের আত্মরক্ষার ভাবনাকে ‘বোকামি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখন অনেক কর্মকর্তা ও কূটনীতিক সেটিকেই বাস্তব প্রত্যাশা হিসেবে দেখছেন।

২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেনারেল ফ্রাঁসোয়া লেকোয়ন্ত্র বলেন, ‘ন্যাটো প্রয়োজনীয়ই রয়ে গেছে, কিন্তু আমাদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ন্যাটোর কথা ভাবতে সক্ষম হতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটিকে কি নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন নামেই চালিয়ে যাওয়া উচিত কি না, সেটিও একটি যৌক্তিক প্রশ্ন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাটো ও অন্যান্য মিত্রদের নিয়ে তার হতাশা স্পষ্ট করেছেন, এবং প্রেসিডেন্ট যেমন জোর দিয়ে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মনে রাখবে।’ ন্যাটোর একজন প্রতিনিধি এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এএম