রাগ কমাতে তুরস্কে ‘রেজ হাউজ’, ইতিবাচক মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা

রেজ হাউজ
রেজ হাউজ | ছবি: সংগৃহীত
0

রাগ প্রশমনের জন্য ‘রেজ হাউজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে তুরস্কের দিয়াবাকির শহরে। যেখানে কাজ ও পারিবারিক চাপের কারণে জন্ম নেয়া ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে জিনিসপত্র ভাংচুরের সুযোগ পান আগতরা। শহরবাসীকে সহিংসতা থেকে দূরে রাখতে নেয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ। যা অল্প সময়েই বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

দেখে মনে হবে মব সন্ত্রাসের ফুটেজ এটি। তুচ্ছ কোনো ইস্যুকে কেন্দ্র করে কোনো সরকারি বা বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। মূলত দৈনন্দিন জীবনে কাজের চাপে জন্ম নেয়া রাগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে তুরস্কের দিয়াবাকির শহরে ‘রেজ হাউজ’ নামে একটি ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। যেখানে, লাঠি দিয়ে কাঁচের বোতল, প্লেট, মাইক্রোওভেন কিংবা রেফ্রিজারেটর ভেঙে রাগ ঝাড়ছেন অনেকে।

প্রায় ২ সপ্তাহ আগে শপটি খোলেন হামজা দুরমাজ নামে এক ব্যক্তি। জানান, বিভিন্ন কারণে দিয়াবাকির শহরের মানুষের রাগ হওয়ার প্রবণতা বেশি। এ কারণে, বাসিন্দারা যাতে কোনো ধরনের সহিংসতায় না জড়ায় সে লক্ষ্যেই খোলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাসিন্দারা জানান, সহিংসতায় জড়িয়ে কারাগারের চার দেয়ালে দিন কাটানোর পরিবর্তে এখানে এক ঘণ্টার মধ্যে রাগ কমানোর সুযোগ রয়েছে । আমার নিজেরও অল্পতে রেগে যাওয়ার প্রবণতা আছে। শুরুতে আমিও এটি কমাতে পরিত্যক্ত জিনিস ভাংচুর করতাম। এতে যথেষ্ট স্বস্তি মিলত।

আরও পড়ুন:

অল্প সময়ের মধ্যেই দিয়াবাকির বাসিন্দাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রাগ কমানোর এই অভিনব উপায়ের সাক্ষী হতে পারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা।

দিয়াবাকির বাসিন্দারা বলেন, কর্মক্ষেত্র, পরিবার সবকিছু মিলিয়ে ক্রমাগত চাপে থাকি। একারণে মানসিক স্বস্তির জন্য এখানে এসেছি। জায়গাটি দারুণ। জিনিসপত্র ভাঙ্গার পর আমার মনে যেন প্রজাপতি উড়ছে। মনে হচ্ছে আমি পুনর্জন্ম পেয়েছি। এদিকে, রাগপ্রবণ এলাকাগুলোর জন্য এমন উদ্যোগ বেশ ইতিবাচক মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হায়রিয়ে মুজদে ইরসেটিন বলেন, শহরবাসীর ক্রমবর্ধমান ক্রোধের জন্য দায়ী অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক চাপ। তাই দিয়াবাকির মতো অঞ্চল যেখানে সহিংসতাকে শক্তির উৎস মনে করা হয়, সেখানে রাগমুক্তির জন্য রেজ হাউজের মতো প্রতিষ্ঠান বেশ প্রাসঙ্গিক। তবে স্বল্পমেয়াদে এটি ইতিবাচক হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কেননা এটি অভ্যাসে পরিণত হলে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।

শুধু তুরস্ক নয়, ইউরোপের অন্যন্য দেশেও রাগ প্রশমনের জন্য এমন স্ম্যাশ রুমের ব্যবস্থা রয়েছে। লন্ডন, বুদাপেস্ট , ব্রাসেলস, মিলানের মতো ব্যস্ত শহরগুলোর বাসিন্দারা ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে এমন হাউসের দ্বারস্থ হন।

ইএ