খনিজ সম্পদ ও আটলান্টিকের নিয়ন্ত্রণ নিতে গ্রিনল্যান্ডের দখল চায় যুক্তরাষ্ট্র

গ্রিনল্যান্ড ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
গ্রিনল্যান্ড ও ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

বিরল খনিজ সম্পদ ও আটলান্টিকের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে গ্রিনল্যান্ডের দখল চায় যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, অঞ্চলটি দখলে নিলে ভবিষ্যতে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও রাশিয়াকে নৌপথে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া, আর্কটিক অঞ্চলটিতে বরফ গলতে থাকায় গ্রিনল্যান্ডের বিরল খনিজের প্রতিও বাড়তি নজর ট্রাম্পের।

ভেনেজুয়েলায় সফল অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চোখ এখন গ্রিনল্যান্ডের দিকে। এরই মধ্যে অঞ্চলটি কেনার প্রস্তাবও দিয়েছে ওয়াশিংটন। যদিও তা প্রত্যাখ্যান করেছে আর্কটিক অঞ্চলটির প্রশাসন। কিন্তু ঠিক কী কারণে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি তীব্র আকর্ষণ ট্রাম্পের তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিস্তর প্রশ্ন।

শুধু গ্রিনল্যান্ডের উপকূলে চীন ও রাশিয়ার নৌবহর মোকাবিলা নাকি আর্কটিক অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ আহরণ ঠিক কোন উদ্দেশ্যে দ্বিপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় ওয়াশিংটন, এর উত্তর খুঁজছে বিশেষজ্ঞরা। অনেকের অভিমত, কৌশলগত অবস্থানের কারণে অঞ্চলটি দখলে বিশেষ নজর দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মূলত গ্রিনল্যান্ড ইউরোপ থেকে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম রুটে অবস্থিত। একারণে অঞ্চলটি একবার ওয়াশিংটনের দখলে গেলে আটলান্টিকের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। যা ভবিষ্যত যেকোনো যুদ্ধ মোকাবিলায় ওয়াশিংটনকে বাড়তি শক্তি দেবে।

আরও পড়ুন:

তবে গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্প যে দাবি করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্পের অভিযোগ, অঞ্চলটির চারপাশ ঘিরে রেখেছে চীন ও রাশিয়ার নৌবহর। যা মোকাবিলার সামরিক সক্ষমতা নেই ডেনমার্কের। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিবেচনায় অঞ্চলটির কর্তৃত্ব চায় ওয়াশিংটন। তবে গ্রিনল্যান্ডের উত্তর পশ্চিমে পিটুফিক নামে একটি বিমান ঘাঁটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। সেখানে স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে মার্কিন সেনা। পাশাপাশি ১৯৫১ সালের চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডে স্বাধীনভাবে চলাচলেরও অনুমতি রয়েছে মার্কিনিদের। এছাড়া, আর্কটিক দ্বীপটিতে রুশ জাহাজ চলাচল করায় যে সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা বলছে ওয়াশিংটন, তা পুরোপুরি সত্য নয়। কেননা শিপিং ডেটার তথ্য অনুযায়ী, আর্কটিকের বেশিরভাগ রুশ জাহাজ তাদের নিজস্ব জলসীমায় ঘোরাফেরা করে।

এছাড়া, আর্কটিক অঞ্চলটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বরফ গলতে শুরু করেছে। এতে করে অঞ্চলটিতে থাকা বিরল খনিজ সম্পদ উত্তোলন সহজ হবে। যা ভবিষ্যৎ অস্ত্র ও প্রযুক্তি শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড ১৯৫৭ সাল থেকে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে। তবে অঞ্চলটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি দেখভাল করে ডেনমার্ক। সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড দখলে মার্কিন তৎপরতার বিরোধিতা করছেন অঞ্চলটির বাসিন্দারা।

তারা বলেন, আমাদের অর্থের প্রয়োজন নেই। আমরা স্বাধীনতা চাই। ট্রাম্প আমাদের কিনতে পারবেন না। আমরা টাকার কাছে বিক্রি হতে আসে নি। গ্রিনল্যান্ডের অনেকে গরীব । কিন্তু কেউই উন্নত জীবনযাপনের আশায় ট্রাম্পের প্রস্তাবে রাজি হবে না।

শুধু আর্কটিক অঞ্চলটির বাসিন্দারাই নয়, গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়েছেন ন্যাটোভুক্ত অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও।

ইএ