শীতে জবুথুবু ইউরোপ-এশিয়া। অন্যদিকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন অস্ট্রেলিয়ানরা। ছুটে যাচ্ছেন সুইমিং পুল, লেক আর সাগর তীরে। পানিতে ডুব দিয়ে, সাঁতার কেটে খুঁজছেন কিছুটা প্রশান্তি।
একজন অস্ট্রেলিয়ান বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা সবাই গরমে অতিষ্ঠ। সহ্য করা কঠিন। পুলে নেমে একটু ভালো লাগছে।’
বছরের এই সময়ে পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। তাই ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে উত্তরে যখন হাড় কাঁপানো শীত, তখন সূর্যের সরাসরি তাপ এসে পড়ে দক্ষিণে। গেল বুধবার ৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণতম দিন পাড় করেছেন মেলবোর্নবাসী। তাপমাত্রা ছিল ৪০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পশ্চিম উপকূলের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৯ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, আগামী শনিবার সিডনির তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াতে পারে। প্রচণ্ড এই তাপদাহের কারণে দেশজুড়ে বন্ধ রাখা হয়েছে ৪ শতাধিক স্কুল। স্থানীয়দের বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়া ও শীতল স্থানে থাকার পরামর্শ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের।
আরও পড়ুন:
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিশেষভাবে ভিক্টোরিয়ার বাসিন্দাদের অনুরোধ করছি আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। চেষ্টা করুন ঠান্ডা জায়গায় থাকতে। যেমন; স্থানীয় লাইব্রেরি, স্কুল, অবসরকেন্দ্র বা শিততপ নিয়ন্ত্রণ ভবন। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পান পা করে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখুন।’
তবে তীব্র এই তাপপ্রবাহে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে উঠেছে দাবানল। বৃহস্পতিবার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের লংউড ও ওয়ালওয়া শহরের কাছে ৩ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকায় ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে দুটি দাবানল। আগুন নেভাতে আনা হয়েছে হেলিকপ্টার, কিন্তু তীব্র বাতাসে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। শুক্রবার থেকে ভিক্টোরিয়া অঞ্চলকে নো ফায়ার জোন ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
৬ বছর আগে, ২০১৯-২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবানলে ১ কোটি হেক্টরেরও বেশি এলাকা পুড়ে যায়। প্রাণ যায় প্রায় ৩ বিলিয়ন বন্যপ্রাণির। ধোঁয়া আর ছাইয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো বনাঞ্চল। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, চলতি মৌসুমে তাপমাত্রা আর বাতাসের যে তীব্রতা দেখা যাচ্ছে, তাতে আবারও অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসতে পারে 'ব্ল্যাক সামার' খ্যাত সেই অভিশপ্ত সময়।





