শীত এমনভাবে থাবা বসিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যে বোঝার উপায় নেই, মৌসুমের এ কেবল শুরু। স্থানীয় সময় বুধবার ভোর থেকেই শক্তিশালী ‘লেক-ইফেক্ট’ তুষারঝড়ের কবলে পড়ে পুরো শহর।
হ্রদের উষ্ণ পানির ওপর দিয়ে হিমশীতল বাতাস বয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট তুষারকে বলা হয় ‘লেক-ইফেক্ট স্নো’। এর কারণে বৃষ্টি আর তীব্র বাতাসে জনজীবনে তো দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছেই, পুরু তুষারে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। জরুরি অবস্থা জারি করে জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনে ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারের নিচে চলে যেতে পারে নিউইয়র্ক।
শীতের হিমেল বাতাস পৌঁছেছে ইউরোপেও। পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারসাওয়ে ভারী তুষারে দেখা দিয়েছে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট। ব্যাহত হচ্ছে রেল ও বিমান চলাচল। অন্যদিকে স্পেনের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ঝড়-বন্যার মধ্যেই বিরল শিলাবৃষ্টির কবলে জনপ্রিয় ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ ইবিজা।
আরও পড়ুন:
ইবিজার বাসিন্দারা বলেন, ‘অনেক বৃষ্টি হয়েছে। শিলায় চতুর্দিক সাদা হয়ে গেছে। বেশ শক্তিশালী ঝড় ছিল। মনে হচ্ছিল যে তুষারপাত দেখছি। খুব ঠাণ্ডাও পড়েছে। বড়দিনের সময় পরিবেশ আরও সুন্দর হয়ে গেছে।’
দুই বছরের ইসরাইলি আগ্রাসনে বিরতি স্বস্তি দিলেও, বিরূপ আবহাওয়ায় সে স্বস্তি স্থায়ী হয়নি ফিলিস্তিনের গাজায়। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে কিংবা শীতের ঝড়ো বাতাসে উড়ে গেছে যুদ্ধে নিঃস্ব ৯০ শতাংশ শরণার্থীর তাঁবুর শেষ আশ্রয়টুকুও।
শরণার্থীরা বলেন, ‘যুদ্ধে শুরু হওয়া ভোগান্তি আজও পিছু ছাড়েনি। আশ্রয় হারিয়েই চলেছি। এবার শীতে তাঁবু হারিয়েছি। আগেরবার বন্যায়। গত রাতে আবহাওয়া হঠাৎ খারাপ হলো। তীব্র বাতাস, বৃষ্টিতে বালির বস্তা দিয়েও তাঁবু বাঁচাতে পারিনি। পুরোটা ছিঁড়ে গেছে। আমরা ভিজে গেছি। কঠিন পরিস্থিতি।’
এদিকে, ভারতে ঘন কুয়াশা থেকে যেন মুক্তি নেই দিল্লিবাসীর। ভেস্তে যাচ্ছে নতুন বছর উদযাপনে ভ্রমণ পরিকল্পনা। বায়ুদূষণ পরিস্থিতি গুরুতর পুরো অঞ্চলে। বিঘ্নিত ট্রেন ও ফ্লাইট চলাচল।
দিল্লির বাসিন্দারা জানান, ৭টা ১০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল। এখন ১০টা ৫০ মিনিটে ছাড়বে বলছে।
ফ্লাইট এক ঘণ্টা পিছিয়েছে বলে জানানো হয়েছে আমাদের। আগেই জানানো হয়েছে বলে বিমানবন্দরে এক ঘণ্টা দেরিতেই এসেছি। তাও অসুস্থবোধ করছি।
হালকা বাতাস আর ভারী আর্দ্রতার কারণে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে কুয়াশা ভারী থাকবে বলে আভাস দেশটির আবহাওয়া বিভাগের।





