যেখানে প্রতিবন্ধকতা সেখানেই বাণিজ্য শুল্কের দেয়াল তুলে দিচ্ছেন নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্ববাজারে ডলারের আধিপত্য ধরে রাখতে এবার চোখ রাঙালেন ব্রিকসের ওপর।
ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টসের তথ্য বলছে, বিশ্বে যত বিদেশি মুদ্রা লেনদেন হয়, তার ৯০ শতাংশই ডলারে। মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ডলারের আত্মপ্রকাশ।
পশ্চিমা বলয় থেকে নিষ্কৃতি পেতে বিকল্প অর্থনৈতিক জোট হিসেবে ব্রিকসের জন্ম। ২০২৩ সালে ডলারের পরিবর্তে নতুন অভিন্ন মুদ্রা প্রচলনের প্রস্তাব করেন ব্রিকসের সদস্য দেশ ব্রাজিল, চীন, ভারত, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার নেতারা। আর সেখান থেকে ব্রিকস ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।
এবার, নির্বাহী ক্ষমতাবলে ব্রিকসের বিকল্প মুদ্রা প্রণয়নের পথ আটকাতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুঁশিয়ারি দেন, ডলারের সাথে টেক্কা দিতে আসলে এই সংগঠনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ব্রিকস ও তার সদস্য রাষ্ট্র আমার ধারণা সংগঠনটি বেশি দিন টিকবে না। তারা যদি ডলারের বিকল্প আনার চেষ্টা করে, আমরা তাদের প্রত্যেকের ওপর ১শ' শতাংশ শুল্ক আরোপ করব। চীন ব্রিকসের সদস্য কী না জানি না। ভালো সাজার চেষ্টা করলে কোনো ফল হবে না।’
এছাড়া এপ্রিলের ২ তারিখ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত সব ধরনের গাড়ির ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা আছে বলে জানান নয়া প্রেসিডেন্ট।
শুক্রবার ওভাল অফিসে ফিরে একের পর এক নির্বাহী আদেশে সই করেছেন ট্রাম্প। গঠন করেছেন নতুন এনার্জি কাউন্সিলও। যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাসের বাজার সম্প্রসারণে লক্ষ্য গঠিত এই কাউন্সিলের দায়িত্ব দেন স্বরাষ্ট্র সচিব ডগ বার্গামকে। এছাড়া, দেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাইরে রপ্তানির ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটিও তুলে নিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে, মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে ইউরোপের সেন্সরশিপ নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যে মন্তব্য করেছেন, তাতে সায় দিয়ে ট্রাম্প বলেন, নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা খর্ব করছেন ইউরোপের রাজনীতিবিদরা। তবে হোয়াইট হাউস বলছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সাথে সাক্ষাতের পরিকল্পনা আছে ট্রাম্পের।