বিদেশে এখন

মরিয়া হয়ে উঠছে পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো

পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো দিন দিন মরিয়া হয়ে উঠছে তাদের পরমাণু সক্ষমতা বাড়াতে। আর সেই উদ্দেশ্যে প্রায় প্রতিবছরই এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। বিশ্বের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের ৯০ শতাংশ সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কব্জায়। পারমাণবিক বোমার মজুত বাড়ানোর এই প্রবণতা মানব সভ্যতার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান মানব সভ্যতার অন্যতম আতঙ্কের নাম নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড বা পরমাণু বোমা। বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে মেতে উঠেছেন পরমাণু অস্ত্রের খেলায়। আর এতেই বিশ্বজুড়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

বিশ্বে চলমান যুদ্ধ-সংঘাতের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া তাদের পারমাণবিক শক্তি আরও বাড়িয়েছে। এ নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্টকহোম ইন্ট্যারন্যাশনাল পিচ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)। তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া বিশ্বের মোট পারমাণবিক শক্তির প্রায় ৯০ ভাগই জব্দ রেখেছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়া- এই নয় দেশের কাছে পারমাণবিক ওয়ার হেড রয়েছে। গেল বছর এ দেশগুলো পারমাণবিক বোমার অস্ত্রাগার আধুনিকীকরণে ব্যয় বাড়িয়েছে উল্লেখযোগ্যহারে। এর পেছনের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, রাশিয়া-ইউক্রেন ও হামাস-ইসরাইল যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোরদার করা।

স্টকহোম ইন্ট্যারন্যাশনাল পিচ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক উইলফ্রেড ওয়ান জানান, ঠাণ্ডা যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশের সম্পর্কে নিউক্লিয়ার বোমা তেমন প্রভাব ফেলেনি। তবে ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা মাথা ব্যথা কারণ হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

২০২৪ সালের জানুয়ারির হিসেব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ১২ হাজার ওয়ার হেডের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৯ হাজারই ব্যবহারের জন্য মজুত ছিলো। বাকি আড়াই হাজার রাখা হয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে বিশেষ ব্যবহারের জন্য।

যুক্তরাষ্ট্র বাজেটের প্রায় সাড়ে ৫১ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াতে। যা বাকি ৮ পরমাণু অস্ত্রধারী দেশের বাজেটের চেয়েও বেশি।

একদিকে যখন পরমাণু সক্ষমতা বাড়াতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র, তখন বসে নেই এর প্রতিপক্ষ দেশগুলো। চীন খরচ করেছে ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। আর রাশিয়া ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। পারমাণবিক শক্তি বাড়ানোর এ প্রবণতা আগামী বিশ্বের জন্য মারাত্বক আকার ধারণ করতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।

এভিএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর