বিদেশে এখন

জওহরলাল নেহেরুর রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন মোদি

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার মাধ্যমে জওহরলাল নেহেরু'র রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতকে গ্লোবাল পাওয়ার হাউজ হিসেবে তৈরি করায় বরেণ্য এই রাজনীতিবিদ যেমন ছিলেন আলোচনায়, তেমনি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানোর অভিযোগে জুটেছে সমালোচনা।

নরেন্দ্র শব্দের অর্থ মনুষ্য জাতির নেতা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজের নামের স্বার্থকতা রক্ষা করতে পেরেছেন কী না তা নিয়ে তর্ক হতে পারে। তবে টানা তৃতীয় মেয়াদে ভারতীয়দের নেতা হিসেবে আবারো নিজেকে প্রমাণ করলেন নরেন্দ্র দামোদার দাস মোদি।

জনতার রায়ে হ্যাট্রিক প্রধানমন্ত্রীত্বের স্বাদ পাওয়া মোদি ভাগ বসিয়েছেন পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর রেকর্ডে। ভারত স্বাধীনের পর ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে দেশের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী নেহেরু। অন্যদিকে একেবারে বিপরীত চিন্তার অধিকারী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রীর ব্যাটন সামলাচ্ছেন ২০১৪ সাল থেকে।

নরেন্দ্র মোদি ডট ইন এর তথ্যমতে, ১৯৫০ সালে উত্তর গুজরাটের ভাদনগর শহরে জন্ম নেন এই রাজনীতিবিদ। বাবার সঙ্গে শহরের রেল স্টেশনে চা বিক্রি করতেন তিনি। ২২ বছর বয়সে শুরু হয় মোদির রাজনৈতিক জীবন। হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংস্থায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। ১৯৮৭ সালে যোগ দেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি)। রাজ্যস্তরে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।

১৯৯৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব ছিল মোদির কাঁধে। নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ে অবদান রাখায় তিন বছর পর তাকে পদোন্নতি দেয়া হয় দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। এরপর মোদিকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। টানা ১১ বছর ছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের অর্থনীতিকে বড় করেন তিনগুণ।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হিন্দিভাষী আঞ্চলিক দল থেকে বিজেপিকে সর্বভারতীয় দলে পরিণত করতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন নরেন্দ্র মোদি। স্বাধীন ভারতে জন্ম নেয়া প্রথম নেতা হয়ে শপথ নেন ভারতের ১৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। গুজরাটের এই নেতার প্রতিশ্রুতি ছিল দিন বদলের।

গেল ১০ বছরে নবম থেকে পঞ্চম বৃহৎ অর্থনীতির দেশের তালিকায় তুলে এনেছেন ভারতকে। তৈরি করেছেন ক্যাশলেস ডিজিটাল ইন্ডিয়া। অবকাঠামো খাতে প্রতিবছর খরচ করা হয়েছে ১০ হাজার কোটি ডলার। নির্মাণ করা হয়েছে ৫৪ হাজার কিলোমিটার নতুন সড়ক। বছরে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলারে। কয়েক হাজার সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় ব্যয় করা হয়েছে ৪শ' কোটি ডলার।

প্রশংসার পাশাপাশি ভারতীয় ইতিহাসে সবচেয়ে সমালোচিত নেতার তকমাও জুটেছে মোদির কপালে। ২০০২ সালে গুজরাটে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গায় প্রাণ হারাণ ২ হাজারের বেশি মানুষ। মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিয়ে নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন তৎকালীন এই মুখ্যমন্ত্রী। মোদির মুসলিম বিদ্বেষী চিন্তাধারার প্রমাণও মিলেছে চলতি লোকসভা নির্বাচনের আগে অযোদ্ধায় বাবরি মসজিদের ওপর রাম মন্দির নির্মাণের ঘটনায়। নির্বাচনী প্রচারেও বিজেপি নেতা প্রাধান্য দেন সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরিতে।

বৃহৎ অর্থনীতির দেশের তালিকায় উপরে থাকলেও মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের অবস্থান ১৪৭ তম। ধনী গরীবের মধ্যে আয়ের বৈষম্য ১০০ বছরের মধ্যে পৌঁছেছে সর্বোচ্চে। বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ শতাংশে। স্নাতক সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ। অভিযোগ আছে গণতন্ত্রের আড়ালে দেশে এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জনক ৭৩ বছর বয়সী নরেন্দ্র মোদি।

ইএ

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর