কিস্তিতে আইফোন-ম্যাক কেনার সুযোগ দিচ্ছে অ্যাপল, মাসিক খরচ কত?

অ্যাপলের ডিভাইস কিস্তিতে কেনার উপায়
অ্যাপলের ডিভাইস কিস্তিতে কেনার উপায় | ছবি : সংগৃহীত
0

নতুন আইফোন, আইপ্যাড বা ম্যাকবুক কেনা অনেকের জন্যই স্বপ্নের মতো। কিন্তু এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বেশ বড় একটা অর্থনৈতিক বাধা। সেই বাধা দূর করে প্রযুক্তিপ্রেমীদের হাতে ডিভাইস পৌঁছে দিতে দারুণ এক সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। এখন থেকে বিপুল অংকের এককালীন অর্থ পরিশোধের বদলে সহজ মাসিক কিস্তিতে (Monthly Installment) আইফোন, ম্যাক, আইপ্যাড ও অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা (Why Apple Introducing Monthly Installment Plan for iPhone and Mac: Apple Upgrade Program Details)।

যুক্তরাষ্ট্রে চালু হওয়া এই নতুন লিজিং কর্মসূচি ‘অ্যাপল আপগ্রেড’ (Apple Upgrade Program) সম্পর্কে যা জানা গেছে, চিপের মূল্যবৃদ্ধির বাজারে অ্যাপলের এই বিশেষ কৌশল এবং গ্রাহকদের সুবিধা-অসুবিধা (how to buy iphone on monthly installment, apple upgrade program cost details, klarna apple financing partnership, iphone price hike 2026) নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

আরও পড়ুন:

কী এই ‘অ্যাপল আপগ্রেড’ সার্ভিস? (What is the New Apple Upgrade Program?)

প্রযুক্তিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএনগ্যাজেট ও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান পুরোনো আইফোন কিস্তি সুবিধা ও আইফোন আপগ্রেড প্রোগ্রাম বন্ধ করে নতুন এই অল-ইন-ওয়ান লিজিং সার্ভিস চালু করেছে।

সুইডেনভিত্তিক শীর্ষ ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ক্লারনা গ্রুপের (Klarna Group) আর্থিক সহায়তায় চালিত এই কর্মসূচির অধীনে গ্রাহকরা নির্ধারিত কম মাসিক ফি দিয়ে তাদের পছন্দের অ্যাপল ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন।

কোন ডিভাইসের জন্য মাসিক খরচ কত?

  • আইফোন (iPhone): মাসিক ১৮ ডলার থেকে শুরু।
  • অ্যাপল ওয়াচ ও আইপ্যাড (Apple Watch & iPad): মাসিক ১২ ডলার থেকে শুরু।
  • ম্যাকবুক ও অ্যাপল ম্যাক (MacBook & Mac): মাসিক ২৫ ডলার থেকে শুরু।

আরও পড়ুন:

চুক্তির মেয়াদ এবং মেয়াদ শেষের সুবিধা (Contract Duration and Renewal Options)

  • ডিভাইসভেদে চুক্তির মেয়াদে ভিন্নতা রাখা হয়েছে:
  • আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচ: ১২ বা ২৪ মাসের চুক্তি।
  • আইপ্যাড ও ম্যাক: ২৪ বা ৩৬ মাসের চুক্তি।

মেয়াদ শেষে গ্রাহকের ৩টি পছন্দ থাকবে:

১. ব্যবহৃত পুরোনো মডেলটি ফেরত দিয়ে নতুন বাজারে আসা যেকোনো লেটেস্ট মডেলে আপগ্রেড করা।

২. অবশিষ্ট অর্থ এককালীন শোধ করে ব্যবহৃত ডিভাইসটি চিরতরে নিজের কাছে রেখে দেওয়া।

৩. চুক্তি শেষে অ্যাপল রিটেইল বা অনলাইন স্টোরে ডিভাইসটি সরাসরি ফেরত প্রদান করা।

হঠাৎ অ্যাপলের এই বড় সিদ্ধান্ত কেন? (Why Apple Shifted to Installment Business Model?)

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI Technology) ও ক্লাউড ডেটা সেন্টারের অভাবনীয় প্রসারের ফলে মেমোরি এবং স্টোরেজ চিপের দাম মারাত্মকভাবে বেড়েছে। এর ওপর অ্যাপলের আসন্ন আইফোন ১৬এস বা আইফোন ১৭ সিরিজের দাম আগের চেয়ে বেশ চড়া হতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছেন।

দাম বাড়লে ডিভাইস বিক্রি কমে যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়, তা কাটিয়ে উঠতেই অ্যাপল তুলনামূলক কম মাসিক কিস্তির এই মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ বা সুবিধা সামনে এনেছে। এতে গ্রাহকের পকেট থেকে একবারে বড় অঙ্কের টাকা খসবে না, আবার অ্যাপলের নিয়মিত বিক্রি ও নতুন মডেল আপগ্রেডেশন বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুন:

যেসব সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা থাকছে (Benefits and Exclusions to Keep in Mind)

  • যেসব মডেল এই সুবিধার বাইরে: এন্ট্রি লেভেলের অ্যাপল ওয়াচ এসই, এন্ট্রি লেভেল আইপ্যাড, সদ্য আসা আইফোন ১৬ বা ম্যাকবুক নিও মডেলগুলো এই সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থার আওতাভুক্ত নয়।
  • ইনস্যুরেন্স সুবিধা বাদ: পুরোনো আপগ্রেড প্রোগ্রামে অ্যাপল কেয়ার প্লাস (AppleCare+) অন্তর্ভুক্ত থাকলেও নতুন ‘অ্যাপল আপগ্রেড’ লিজিং প্ল্যানে অ্যাপল কেয়ার সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে থাকবে না। এটি চাইলে গ্রাহককে আলাদাভাবে যোগ করতে হবে।
  • ব্যবসায়িক কেনাকাটায় প্রযোজ্য নয়: এটি কেবল ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য চালু করা হয়েছে; ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাল্ক কেনাকাটার ক্ষেত্রে এই ফাইন্যান্সিং সুবিধা কাজ করবে না।

বর্তমানে অ্যাপলের নিজস্ব ফিজিক্যাল রিটেইল স্টোর এবং অনলাইন অ্যাপল স্টোর—উভয় মাধ্যম থেকেই প্রয়োজনীয় ক্রেডিট অ্যাপ্রুভাল নিয়ে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন মার্কিন গ্রাহকরা। পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক অন্যান্য বাজারের গ্রাহকদের জন্যও এই লিজিং ফ্ল্যাট চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লিজের মেয়াদ ও ডিভাইসের তালিকা:

  • আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচ: এই ডিভাইসগুলো ১২ বা ২৪ মাসের চুক্তিতে লিজ নেওয়া যাবে। এর মধ্যে আইফোনের মাসিক লিজ ফি শুরু হচ্ছে ১৭.৯৯ ডলার থেকে। এ সুবিধার আওতায় থাকবে লেটেস্ট আইফোন ১৭ সিরিজ, আইফোন এয়ার, অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১১ এবং অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৩।
  • ম্যাক ও আইপ্যাড: এসব ডিভাইস ২৪ বা ৩৬ মাসের মেয়াদে ভাড়া নেওয়া সম্ভব। এই তালিকায় রয়েছে ম্যাকবুক এয়ার, ম্যাকবুক প্রো, আইম্যাক, ম্যাক স্টুডিও, আইপ্যাড এয়ার, আইপ্যাড প্রো এবং আইপ্যাড মিনি।

যেসব ডিভাইস এই সুবিধার বাইরে থাকছে:

তুলনামূলক কম দামি ও এন্ট্রি-লেভেলের বেশ কিছু পণ্যকে এই লিজ সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে; আইফোন ১৬, ম্যাকবুক নিও, বেসিক আইপ্যাড এবং অ্যাপল ওয়াচ এসই।

আরও পড়ুন:

অ্যাপলের যেকোনো ডিভাইস কেনা যাবে কিস্তিতে: জেনে নিন বিস্তারিত ও পাওয়ার প্রক্রিয়া

একনজরে: 'অ্যাপল আপগ্রেড' প্রোগামের আওতায় ডিভাইসভিত্তিক মাসিক খরচ, চুক্তির মেয়াদ, যোগ্যতা এবং পাওয়ার ধাপসমূহ

সেবার বিষয়/ক্যাটাগরি বিস্তারিত বিবরণ ও ফি তালিকা চুক্তির মেয়াদ ও নিয়মাবলী

আইফোন (iPhone)

মাসিক কিস্তি শুরু ১৮ ডলার ($18) থেকে।

১২ মাস বা ২৪ মাসের চুক্তি।

অ্যাপল ওয়াচ ও আইপ্যাড
(Apple Watch & iPad)

মাসিক কিস্তি শুরু ১২ ডলার ($12) থেকে।

অ্যাপল ওয়াচ: ১২/২৪ মাস,
আইপ্যাড: ২৪/৩৬ মাস।

ম্যাকবুক ও ম্যাক (Mac)

মাসিক কিস্তি শুরু ২৫ ডলার ($25) থেকে।

২৪ মাস বা ৩৬ মাসের চুক্তি।

আর্থিক পার্টনার

সুইডেনভিত্তিক শীর্ষ ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ক্লারনা গ্রুপ (Klarna Group)-এর মাধ্যমে পরিচালিত।

সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া
(How to Apply)

১. অ্যাপল রিটেইল স্টোর বা অনলাইন অ্যাপল স্টোরে ভিজিট করুন।

২. 'Apple Upgrade' সার্ভিস বেছে নিয়ে ক্লারনা (Klarna)-র ক্রেডিট অ্যাপ্রুভালের জন্য আবেদন করুন।

৩. ক্রেডিট যাচাই উত্তীর্ণ হলে পছন্দসই চুক্তির মেয়াদ (১২, ২৪ বা ৩৬ মাস) নির্বাচন করুন।

৪. প্রাথমিক অনুমোদনের পর মাসিক কিস্তিতে ডিভাইস বুঝে নিন।

মেয়াদ শেষে অপশনসমূহ

নতুন মডেলে আপগ্রেড: পুরোনো ডিভাইস জমা দিয়ে নতুন ভার্সন নেওয়া।

নিজের কাছে রাখা: অবশিষ্ট অর্থ এককালীন শোধ করে সম্পূর্ণ নিজের করা।

ফেরত প্রদান: চুক্তি শেষে ডিভাইসটি স্টোরে ফেরত দেওয়া।

সীমাবদ্ধতা ও ব্যতিয়ম

• অ্যাপল ওয়াচ এসই, এন্ট্রি লেভেল আইপ্যাড, আইফোন ১৬ ও ম্যাকবুক নিও এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে।

• অ্যাপল কেয়ার+ এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থাকবে না (আলাদা কিনতে হবে)।

• ব্যবসায়িক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাল্ক কেনাকাটায় এটি প্রযোজ্য নয়।

আরও পড়ুন:

কিস্তিতে আইফোন কেনার নিয়ম ২০২৬ (how to buy iphone on installment 2026), অ্যাপল আপগ্রেড প্রোগাম কি (what is apple upgrade program), কম খরচে আইফোন ও ম্যাকবুক (low cost iphone and macbook financing), ক্লারনা অ্যাপল লিজিং সুবিধা (klarna apple upgrade leasing option), আইফোনের দাম বৃদ্ধির কারণ (reasons behind iphone price hike)

এসআর