বারকোড: বিজ্ঞানের অবিস্মরণীয় এক আবিষ্কার!

0

চটজলদি কোন পণ্য সম্পর্কে জানার জন্য বারকোডের জুড়ি নেই। এই বারকোড ছাড়া আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্য ভাবাই যায় না। বিশ্বে প্রতিদিন ৬ বিলিয়নেরও বেশি বারকোড স্ক্যান করা হয়। বাইরে থেকে দেখলে একইরকম মনে হলেও প্রত্যেকটি পণ্যের বারকোড আসলে ভিন্ন ভিন্ন। তবে কীভাবে আবিষ্কার হলো এই বারকোড?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যখন বাজারে নতুন নতুন পণ্য আসে, তখন কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা আমেরিকানদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৪০ এর গোড়ার দিকে সুপারমার্কেটের গতি বাড়াতে নতুন এক পদ্ধতি চালু করা হয়। ফিলাডেলফিয়ার ড্রেক্সেল ইউনিভার্সিটির স্নাতকের দুই শিক্ষার্থী বার্নার্ড সিলভার ও নরম্যান জোসেফ উডল্যান্ড বারকোড সিস্টেমের একটি পেটেন্ট বানান।

১৯৪৯ সালে বার্নার্ড সিলভার ও নরম্যান জোসেফ উডল্যান্ড সর্বপ্রথম বারকোডের জন্য একটি প্যাটেন্ট আবেদন করেন। সেসময় তাদের প্যাটেন্টের বর্ণনায় উল্লেখ ছিল, বারকোডের সাথে কিছু নম্বর যুক্ত থাকবে যা প্রতিটি পণ্যের আলাদা পরিচিতি বহন করবে। পাশাপাশি তা পড়ার জন্য যান্ত্রিক এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কথাও তাতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রায় ৭০ বছর পর আজকের আধুনিক প্রযুক্তিতে সমান্তরাল বারকোড নম্বরের সাহায্যে পণ্যের সংক্ষিপ্ত তথ্য পাওয়া যায়। তবে একসময় এই বারকোড এমন সমান্তরাল ছিল না। একসময় এই বারকোড ছিল অক্ষিগোলকের মত গোলাকার।

|undefined

১৯৬৭ সালে রেলরোড ট্র্যাকিং কার্ট্রাক পদ্ধতি চালু হয়, যা ছিল বিশ্বের প্রথম বারকোড পদ্ধতি। পণ্যবাহী রেলের গতিবিধি অনুসরণ করতে এই কার্ট্রাক বারকোড পদ্ধতি ব্যবহার হতো। আজকের বারকোডের মত এই বারকোডগুলোও সমান্তরাল রেখার এবং বিভিন্ন রংয়ের হতো। কিন্তু এই পদ্ধতিটি থেকে আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় ১৯৭০ সালে এটি বাতিল করা হয়।

 

|undefined

ঠিক সেই সময়ে গ্রসারি শিল্পে এই কার্ট্রাক পদ্ধতি চালু করা হয়। ১৯৬০ এর দশকের শেষের দিকে গ্রোসারি শপগুলোতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে বিভিন্ন ধরনের বারকোড চিহ্ন ব্যবহার শুরু করে। বারকোডগুলো কেবলমাত্র উৎপাদন এবং চেকআউট করার উপায় হিসাবে সবাই একই প্রতীক ব্যবহার করতে সম্মত হয়। তবে এই পদ্ধতির অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। তাই ১৯৭১ সালের দিকে গ্রোসারি শিল্প মালিকরা এই পদ্ধতির উন্নয়নে একটি কমিটি গঠন করেন।

 

|undefined

পরবর্তীতে এই কমিটি বিভিন্ন ধরনের ডাটা বিশ্লেষণ করে এবং বিভিন্ন ডিজাইনের বারকোডের প্রতীক নিয়ে কাজ শুরু করে। এসময় ৭ রকমের বারকোড ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়।

 

|undefined

১৯৭৩ সালের ৩ এপ্রিল সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার জর্জ লরিয়ারের তৈরি আইবিএম সংস্করণের বারকোডটি ব্যবহারের অনুমোদন পায়। ১৯৭৪ সালে ওহাইও'র মার্শ সুপারমার্কেটে বারকোডযুক্ত প্রথম পণ্যের ঠাঁই হয়। এরপরই বিশ্বব্যাপী এই প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটতে থাকে। প্রথম যে আইটেমটি স্ক্যান করা হয়, সেটি ছিল রিগলি'স জুসি ফ্রুট চুইংগামের ১০ প্যাকের একটি ব্যাগ। সে সময়ে এর মূল্য ছিল ১.৩৯ ডলার।

 এরপর ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে বিখ্যাত হয়ে ওঠে এই বারকোড। তবে আজকের বারকোডটি অনেক পরিমার্জিত সংস্করণ।

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর
No Article Found!