খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: এজেন্সির তালিকা ঘিরে নতুন সিন্ডিকেট প্রথা চালুর অভিযোগ

মালয়েশিয়ায় কর্মরত শ্রমিকরা
মালয়েশিয়ায় কর্মরত শ্রমিকরা | ছবি: সংগৃহীত
0

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির নাম ঘোষণা করেছে দেশটির অভিবাসী কর্মী ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস। তবে এই তালিকার মাধ্যমে ফের সিন্ডিকেট প্রথা চালুর অভিযোগ জনশক্তি রপ্তানি সংশ্লিষ্টদের। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সদস্যরাও। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে সাধারণ কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় বাড়বে। অস্থিতিশীল হতে পারে শ্রমবাজার। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এই তালিকার বিষয়ে আসেনি আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা।

অনিয়ম, উচ্চ অভিবাসন ব্যয় ও অব্যবস্থাপনার দায়ে ২০২৪ সাল থেকে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য পঁচিশটি রিক্রুটিং এজেন্সির নাম প্রকাশ করা হয়েছে। গেল শুক্রবার মালয়েশিয়া সরকারের অনলাইনভিত্তিক কেন্দ্রীয় অভিবাসী কর্মী ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউএমএস এই তালিকা প্রকাশ করে।

জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই এ তালিকাকে ‘নতুন সিন্ডিকেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। তালিকা পদ্ধতিকে শ্রমবাজারের জন্য অশনিসংকেত হিসেবেও দেখছেন তারা।

বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো শুধু ডামি হিসেবে কাজ করছে। এক-দুই হাজার টাকার জন্য কাজ করছে। তাদের পেছনে ব্যাকে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ রয়েছে। এবং আগে যারা সিন্ডিকেট করেছিল এ ২৫ সিন্ডিকেটের ব্যক্তিবর্গরা, একই নামে-বেনামে এই সিন্ডিকেটের সাথে সম্পৃক্ত।’

একই প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়া থেকে ঘোষিত নেপাল জন্য দেয়া তালিকা প্রত্যাখ্যান করেছে নেপাল সরকার। বাংলাদেশেরও অবস্থান পরিষ্কার করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিতে বোয়েসেলের সমন্বয়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর পরামর্শ বায়রার এই নেতার।

আরও পড়ুন:

বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সরকারেরও এ বিষয়টা ঠিক একইভাবে নেপালের মতো আমি মনে করি, এই সিন্ডিকেটকে প্রত্যাখ্যান করা উচিত। প্রয়োজনে বোয়েসেলের একটা এনওসি নিয়ে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিগুলো যার যার মার্কেটিং আছে তারা ডিমান্ড নিয়ে এসে বোয়েসেলকে একটা ফি দিয়ে যার যার নামে কর্মী পাঠানো যেতে পারে। এবং ১৯৯৬ সালে এটার কিন্তু দৃষ্টান্ত আছে।’

তবে জনশক্তি রপ্তানিকারক সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বোয়েসেল ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক বলেন, ‘বোয়েসেল এটি সরকারি সংস্থা। এ বিষয়ে আমি আপনার কাছে কোনো সরাসরি মন্তব্য করতে পারবো না। এটি মন্ত্রী মহোদয় দেখছেন, এই বিষয়ে উনার সঙ্গে কথা বলবেন। বোয়েসেলের অবস্থান সবসময় পরিষ্কার, আমরা ইথিক্যাল মাইগ্রেশনে বিশ্বাসী।’

কয়েকবছর ধরে কিছু নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট দখল করে রেখেছে এই শ্রমবাজার। সিন্ডিকেটের দখলে থাকায় অভিবাসন ব্যয়ের চাপ বাড়ছে কর্মীদের ওপর। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তালিকা করার কারণে আবারও অস্থিতিশীল হতে পারে এই শ্রমবাজার।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় দুই-আড়াই হাজার রিক্রুটিং এজেন্সি আছে। এই দুই-আড়াই হাজার থেকে আপনি কোন বেসিসে ২৫ জনকে আপনি বাছাই করলেন? যোগ্যতাটা কী? এখানে পরিষ্কার দুর্নীতি, অনিয়ম ছাড়া তো আর কিছুই নেই। কোনোভাবেই ২৫ জনের সিন্ডিকেট—এই প্রক্রিয়ার মধ্যে কর্মী পাঠানো উচিত হবে না। বরং বাংলাদেশের পরিষ্কার করে বলা উচিত যে, আমরা চাচ্ছি একটা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কর্মী যাবে এবং আমাদের সিস্টেমের মধ্য দিয়েই যাবে।’

তবে মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের জন্য ঘোষিত নতুন তালিকা প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা আসেনি।

এফএস