আজ (সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ফেনী জেলা ডেঙ্গু প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার ছয় উপজেলায় ১৫৭টি ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়। এতে ১৮ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ১২ জন এবং সোনাগাজীতে ৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অন্য চার উপজেলায় নতুন করে কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসে ফেনীতে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩১২ জন। এর আগের মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৪৫ জন। অর্থাৎ আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এরইমধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফেনীতে মোট ৫৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর বিপরীতে ২০২৫ সালে পুরো বছরে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০১ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় চলতি বছর আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৯৪ জন। এর মধ্যে ৩৬৭ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৭ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই।
আরও পড়ুন:
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে, ফেনী সদরে এ পর্যন্ত সর্বাধিক ৪০৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সোনাগাজীতে ৪৯ জন, দাগনভূঞায় ৪৫ জন, ছাগলনাইয়ায় ২৬ জন, পরশুরামে ১৭ জন এবং ফুলগাজীতে ১৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো আরিফুজ্জামান, ডেঙ্গুর বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে৷
২৫০ শয্যার ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, ‘জ্বর-সর্দি হলেই রোগীরা হাসপাতালে ভর্তির জন্য চলে আসছে। যার ফলশ্রুতিতে হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ রয়েছে। স্বল্প জনবলে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় ডাক্তার ও নার্সদের।’
জেলা প্রশাসক মাহবুবুল হক বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে পুরো জেলায় সর্বাত্মক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে।’





