‘ব্যর্থতার দায় নিয়ে’ ডাকসু নেতা সর্ব মিত্রের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত

সর্ব মিত্র চাকমা
সর্ব মিত্র চাকমা | ছবি: সর্ব মিত্রের ফেসবুক প্রোফাইল
0

‘প্রশাসনের অসহযোগিতা ও ব্যর্থতার দায়’ মাথায় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সর্ব মিত্র চাকমা। আজ (সোমবার, ২৬ জানুয়ারি) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এর আগে, গতকাল (রোববার, ২৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও। ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোণায় প্রায় ৩০ জন কিশোর-তরুণ সারিবদ্ধভাবে কান ধরে উঠবস করছেন। তাদের সামনে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন ডাকসু সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। এসময় ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনকেও সেখানে উপস্থিত দেখা যায়। ঘটনাটি গত ৬ জানুয়ারির বলে জানা গেছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সর্ব মিত্র চাকমা ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের ১৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় মাঠে অনুশীলনে যাওয়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। তিনি লেখেন, এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেও মাঠসংলগ্ন দেয়াল সংস্কার বা নিরাপত্তা জোরদারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজেট সংকটের কথা জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সর্ব মিত্র লেখেন, প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে। বহিরাগতরা দেয়াল টপকে মাঠে প্রবেশ করছে এবং নিষেধ করা হলে স্টাফদের ওপর ঢিল ছুড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে তিনি চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।

আরও পড়ুন:

তবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়ে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। সোমবারের পদত্যাগপত্রে সর্ব মিত্র চাকমা লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, মোবাইল, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে বারবার প্রশাসনকে অবগত করা হলেও কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র এখনো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি এবং বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে সর্ব মিত্র চাকমা লেখেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি বহিরাগতদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হন। তবে এ ধরনের শাস্তি দেয়া তার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না বলেও স্বীকার করেন তিনি।

সবশেষে তিনি জানান, ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তটি তার ব্যক্তিগত। কারও প্রতি ক্ষোভ বা অভিমান থেকে নয়। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে তাকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন, প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে তিনি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। সেই ব্যর্থতার দায় নিয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এসএইচ