জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে কোথায় বাড়বে আপনার খরচ

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধু পাম্পে গিয়ে বেশি টাকা দেয়ার বিষয় নয়, এর প্রভাব পড়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি খাতে। যাতায়াত থেকে বাজার, বিদ্যুৎ বিল থেকে বাসাভাড়া; সবখানেই বাড়তি চাপ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত মাস শেষে হিসাব মিলাতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন সীমিত আয়ের ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

সরকার সম্প্রতি প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। নতুন এ দাম রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে।

একই দিনে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দামও বাড়ানো হয়। প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকায়। অর্থাৎ এক সিলিন্ডারে বেড়েছে ২১২ টাকা। চলতি মাসে এটি দ্বিতীয় দফা মূল্যবৃদ্ধি।

অকটেন, পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ায় প্রথম ধাক্কা আসে পরিবহন খাতে। বাসভাড়া, সিএনজি, রাইড শেয়ারিং সেবা এমনকি রিকশাভাড়াও বাড়তে পারে। যে ব্যক্তি আগে অফিসে যাওয়া-আসায় দিনে ১০০ টাকা খরচ করতেন, এখন তা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় যেতে পারে। এতে মাসে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ বাড়বে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়ে। ফলে ট্রাকভাড়া বাড়ে, আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বাজারে। শাকসবজি, মাছ, মাংস, চালসহ প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে।

এআই নির্মিত ছবি |ছবি: এআই নির্মিত

ডিজেলচালিত সেচব্যবস্থার খরচ বাড়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ে, যার প্রভাব পরে চাল ও খাদ্যপণ্যের দামে। ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেড়ে গেলে সরকার ভর্তুকি কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে মাস শেষে বাড়তি বিল গুনতে হবে গ্রাহকদের। যেমন আগে মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল এলে তা বেড়ে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

বাজারদর, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের খরচ বাড়ার পর বাড়িওয়ালারা প্রায়ই বাসাভাড়া বাড়ানোর যুক্তি দেখান। এতে ভাড়াটিয়াদের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়। যে বাসার ভাড়া ১০ হাজার টাকা ছিল, তা বেড়ে ১১ হাজার টাকা হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকানগুলোতে এলপিজি ব্যবহার হয় বেশি। গ্যাসের দাম বাড়ায় খাবারের দামও বাড়তে পারে। আগে ১০০ টাকার খাবার এখন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা হতে পারে। পরিবার নিয়ে মাসে দুবার বাইরে খেলে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ বাড়বে।

অনলাইনে খাবার বা পণ্য অর্ডারের ক্ষেত্রেও খরচ বাড়তে পারে। পরিবহন ব্যয় বাড়ায় ডেলিভারি চার্জ ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। মাসে ৮ থেকে ১০ বার অর্ডার করলে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ হবে।

সার্বিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের সঞ্চয় কমে যাবে। আগে মাসে ৫ হাজার টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব হলেও এখন তা কমে ২ থেকে ৩ হাজার টাকায় নেমে আসতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে মাস শেষে হাতে টাকা না থেকে উল্টো ধারদেনা করতে হতে পারে। যেখানে আগে ২-৩ হাজার টাকা অবশিষ্ট থাকত, এখন সেখানে শূন্য হিসাব কিংবা নতুন ঋণ যুক্ত হতে পারে।

এনএইচ