খোয়াই নদী ধরে যাত্রা শুরু। গন্তব্য ধলেশ্বরী মোহনা। পথে পথে নদীকেন্দ্রিক বৈচিত্র্যময় গ্রামীণ জীবনের নানা চিত্র। যেখানে পরতে পরতে জল ও জীবনের নিবিড় সম্পর্ক। এখানে জীবন যেমন সহজ-সরল, তেমনি সংগ্রামের।
আটকাতে হলো ধলেশ্বরী-কুশিয়ারা মোহনায়। দীর্ঘদিন ধরে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক না থাকায় কমেছে নাব্যতা, ক্ষীণ হয়ে পড়েছে নদী। ফলে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে নদী তীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা ও কৃষিতে।
একজন স্থানীয় বলেন, ‘নদীর পলি জমে নদী এখন এমনই ভরাট হয়েছে যে ছোট ডিঙি নৌকাও চলাচল করতে পারে না।’
আরেকজন বলেন, ‘এই নদী যদি আবারো খনন করা না হয়, তাহলে আমাদের চলাচলের আর কোনো পথ থাকবে না।’
হবিগঞ্জের খোয়াই, রত্না, সুতাং ও ধলেশ্বরী মিলিত হয়েছে হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের সীমান্তবর্তী আদমপুর এলাকায় কুশিয়ারা নদীতে। তবে কয়েকবছর আগে লুপ কাটিংয়ের মাধ্যমে কুশিয়ারা নদীর গতিপথ বদল করায় এখানের ১৩ কিলোমিটার অংশ পুরাতন কুশিয়ারায় পরিণত হয়।
এতে, পুরো অংশে চর জেগে ওঠায় কমেছে পানিপ্রবাহ। ফলে বর্ষায় হবিগঞ্জের খোয়াই, রত্না, সুতাং ও ধলেশ্বরী নদীর পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে উজানে সৃষ্টি হচ্ছে বন্যার।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘নদীটা যদি খনন করে না দেয় তাহলে আমাদের সাথে সাথে এটা সিলেটের জন্যও বিশাল ক্ষতি।’
আরেকজন বলেন, ‘দীর্ঘদিন খনন না করার কারণে যে চর জমেছে, সেটার কারণে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি নিষ্কাশিত হতে পারে না।’
বাপার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘আমরা শুনে আসছি যে এই নদী খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে, কিন্তু সেটা তো হচ্ছে না। আমরা দেখছি যে ভুল নীতি, অপরিকল্পিত এবং অবৈজ্ঞানিক পন্থায় যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো হয় সেগুলোর কারণে এই চরগুলো জেগেছে।’
কুশিয়ারা নদীর উভয় তীরের প্রতিরক্ষা প্রকল্পের আওতায় রত্না-ধলেশ্বরীর ২১ কিলোমিটার খননের জন্য ২০২২ সালে প্রকল্প নেওয়া হয়। তবে বাস্তবায়ন করা হয় শুধু রত্না নদীর আট কিলোমিটার অংশ। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, রত্না থেকে ধলেশ্বরী মোহনা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার খননের জন্য ৯৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বাস্তবায়ন হলে স্বাভাবিক হবে পানি প্রবাহ।
হবিগঞ্জের পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসনাইন মাহমুদ শামীম বলেন, ‘এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে আমরা আট কিলোমিটার, আরো সাড়ে ১৩ কিলোমিটার খনন করতে হবে। তাহলে পুরো ধলেশ্বরী নদীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাটি চালু হয়ে যাবে।’
দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উজানে কমবে বন্যা ঝুঁকি। সেইসাথে প্রাণ ফিরে পাবে নদীকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকা।