শিকড়
সংস্কৃতি ও বিনোদন
আজম খান, বাংলা ব্যান্ড জগতের চিরঅম্লান এক নক্ষত্র
আজম খানকে বলা হয় বাংলাদেশের পপ ও ব্যান্ড সংগীতের অগ্রপথিক। পশ্চিমা ধাঁচের পপগানে দেশজ বিষয়ের সংযোজন করেছিলেন তিনি। স্বাধীনতা-পরবর্তীতে অগোছালো দেশে অশান্ত ও হতাশ হয়ে উঠেছিল তারুণ্য। এ পপ তারকার গান তখন ভাষা হয়ে উঠেছিল তরুণদের কণ্ঠে।

"রেল লাইনের ঐ বস্তিতে

জন্মেছিল একটি ছেলে

মা তার কাঁদে,

ছেলেটি মরে গেছে

হায়রে হায় বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ..."

এভাবেই গানে গানে এক অসহায় বাংলাদেশের কথা বলছিলেন আজম খান। ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা পপ গানের এই গুরু। তার প্রকৃত নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তিনি। বাবার অনুপ্রেরণায় স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নেন আজম খান। দুই নম্বর সেক্টরের একটি সেকশনের ইনচার্জ ছিলেন তিনি।

সংগীতশিল্পী হিসেবে সর্বাধিক পরিচিতির পাশাপাশি অভিনেতা, ক্রিকেটার ও বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হিসেবেও আজম খান ছিলেন জনপ্রিয়।

আজম খানের কর্মজীবনের শুরু ষাটের দশকের প্রথমদিকে। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের পর ১৯৭২ সালে তিনি তার বন্ধুদের নিয়ে ‘উচ্চারণ’ নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন। এই ব্যান্ড দল দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

‘এক যুগ’ নামে আজম খানের প্রথম অডিও অ্যালবাম প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে। ১৭টি একক, ডুয়েট ও মিশ্রসহ সব মিলিয়ে তার গানের অ্যালবাম ২৫টি। তার জনপ্রিয় কয়েকটি অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে ‘দিদি মা’, ‘বাংলাদেশ’, ‘কেউ নাই আমার’, ‘অনামিকা’, ‘কিছু চাওয়া’, ‘নীল নয়না’।

বাংলা পপ গানের যে ধারা তিনি শুরু করেন, তা যেন সময়ের সঙ্গে প্রবাহমান থাকে, সেই পথও তৈরি করে গেছেন আজম খান। হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের পপ সম্রাট। 

২০১১ সালের ৫ জুন মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মৃত্যুর কাছে হার মানেন এই মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী। সংগীতে অবদানের জন্য মৃত্যুর প্রায় আট বছর পর বাংলা পপ সঙ্গীতের এই গুরুকে দেওয়া হয় একুশে পদক।

তিনি আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছেন সত্য, কিন্তু হৃদয় থেকে হারিয়ে যাননি আজও। গানের মাধ্যমে বেঁচে আছেন শ্রোতাদের হৃদয়ে। ভাবিকালের তারুণ্যের কণ্ঠে, তাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন পপগুরু আজম খান।

কেফা