শিকড়
সংস্কৃতি ও বিনোদন
'আঞ্চলিকতা' বাংলা ভাষার এক অন্যতম সম্পদ
অঞ্চলভেদে ভাষা বদলে যায়। আর এই আঞ্চলিক ভাষার সৌন্দর্যই বাংলা ভাষার অন্যতম সম্পদ। একই শব্দ ভিন্ন অঞ্চলে নানান আঙ্গিকে ব্যবহৃত হয়ে সমৃদ্ধি বাড়ায় ভাষার। ভাষাবিদরা মনে করেন, কোনো কারণে আঞ্চলিক ভাষা প্রাচুর্য হারালে, তা হতে পারে সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের কারণ।

নানা অঞ্চলের নানান বুলিতেই সমৃদ্ধ বাংলা ভাষার ঝুলি। আঞ্চলিক ভাষাতেই স্পষ্ট শেকড়ের টান, যার সাথে লেগে থাকে মাটির গন্ধ, লোকজ সংস্কৃতির চেনা উপাদান।

আঞ্চলিক ভাষা কি দুবোর্ধ্য? অঞ্চলভেদে হয়তো কিছুটা, কিন্তু মায়ের কাছে শেখা এই বুলিতেই তো শেকড়ের নির্যাস। আত্মার তৃপ্তি।

সময়ের সঙ্গে ভৌগলিক পরিবেশ, প্রযুক্তি আর কর্মস্থলের প্রভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে আঞ্চলিক ভাষা। অনেকের মতে, শেকড়ের ভাষা বলতে বা শেখাতেও যেন এখন সংকীর্ণতা আছে।

তবুও শহুরে জীবনে হঠাৎ দেখায় বা গল্পে প্রকাশ পায় আঞ্চলিক ভাষার আবেগ, সুর-লয়। কথার টানে ফিরে আসে প্রাণ।

সংস্কৃতিজনরা বলছেন, প্রতিটি অঞ্চলেরই আছে শ্রুতিমধুর ভাষা, যা ঠাট্টা বা অবহেলার বিষয় নয়। তবে তা লালন বা ধারণে কাপর্ণ্য আছে, মর্যাদার প্রশ্নে যা মোটেও সুখকর নয়।

একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেতা মঞ্চসারথি আতাউর রহমান বলেন, 'আঞ্চলিক ভাষা লিপিবদ্ধ করা উচিত। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ করেছেন। এছাড়াও একজন আধুনিককে লিপিবদ্ধ করা উচিত। সেগুলোকে আমাদের বিভিন্ন সাহিত্যের কাজে, নাটকের কাজে ব্যবহার করা উচিত। তখনই আঞ্চলিক ভাষা যথার্থ মর্যাদা পাবে। আঞ্চলিক ভাষাই হলো ঘরের ভাষা।'

আঞ্চলিক ভাষার চল আছে রেডিও-টেলিভিশনেও। বিশেষ করে নাটক-সিনেমায়। তবে আগের গুণগত মান এখন অনেকটাই ম্রিয়মান। প্রমিত ভাষার মত আঞ্চলিক ভাষারও বিবর্তন হচ্ছে।

অভিনেতা আমিরুল হক চৌধুরী বলেন, 'এখনকার বিকাশকে অস্বীকার করছি না। তবে সেই বিকাশ অত্যন্ত বাঁধাগ্রস্থ, আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে। আশা করছি যারা এটা নিয়ে চর্চা করবেন এ আঘাতগুলোকে তারা স্বার্থ, লোভ, বাণিজ্যের চিন্তা না করে সৎভাবে ভাষাকে সমৃদ্ধ করার জন্য চেষ্টা করা উচিত।'

জ্ঞানচর্চার ভাষা না হলেও সাহিত্য-উপন্যাসের সংলাপে বহুল ব্যবহৃত আঞ্চলিক ভাষা। যুগে যুগে অনেক লেখকের হাত ধরে বিকাশ ঘটেছে এই ভাষার। তবে জোরপূর্বক প্রয়োগ যেমন কাম্য নয়, তেমনি তা উপেক্ষিত হয়ে বিলুপ্তির পক্ষেও নন গবেষকরা।

আধুনিকতার ছলাকলায় ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে আঞ্চলিক ভাষা। প্রমিত চর্চায়ও রয়েছে বিকৃতির অভিযোগ। তাই সচেতন মহলের প্রত্যাশা, মাতৃভাষার প্রয়োজনেই প্রমিতের সঙ্গে বাড়ুক আঞ্চলিক ভাষার ভাব।

এমএসআরএস