পুলিশ বলছে অভিযানে গ্রেপ্তার; আসামির বাবার ভাষ্য— নিজেই দিয়েছেন তাদের হাতে

আসামি জুয়েল রানা
আসামি জুয়েল রানা | ছবি: এখন টিভি
0

ঠাকুরগাঁওয়ে টাটা কোম্পানির একটি সার্ভিসিং সেন্টারে নিরাপত্তাকর্মী আব্দুর রহমান (৫৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জুয়েল রানা নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে গ্রেপ্তারকৃত আসামির বাবার ভাষ্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিজের ছেলেকে নিজেই পুলিশে সোপর্দ করেন তিনি।

আজ (বুধবার, ১২ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন বলেন, ‘বুধবার ভোর রাতে সদর থানা পুলিশ পৌর শহরের সেনুয়া ব্রিজ এলাকার বউ বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রথমে অভিযানের বিষয় টের পেয়ে পালিয়ে যায় জুয়েল। পরবর্তীতে পুনরায় অভিযান চালিয়ে গোয়ালপাড়া এলাকায় তার নানার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

তবে গ্রেপ্তারকৃত জুয়েল রানার বাবা আব্দুল খালেকের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিজের ছেলেকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানার পরে আমি আমার ছেলেকে ফোন দিয়েছিলাম। সে বলেছিলো সে বাসার একদিকে আছে। এরপর সে আর কোনো ফোন ধরেনাই। পরে রাত ১১টার দিছে আমার ছেলে তার মা কে ফোন করে বলে যে, “মা আমি এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটাইছি”। পরবর্তীতে আমি তাকে বাসায় আটকায় রাখতে বলি এবং থানায় গিয়ে ওসি সাহেবকে নিয়ে আসে আমি আইনের হাতে তুলে দিয়েছি আমার ছেলেকে।’

এদিকে গ্রেপ্তারকৃত আসামির বাবা আব্দুল খালেকের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন দাবি করে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আসামির অবস্থান টের পেয়েই পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করেন। আসামি পালিয়ে যাবার পরে তার বাবা আমাদের কাছে আসে বিষয়গুলো বলেছেন। পরবর্তীতে পুনরায় আমরা আরেকটি অভিযান চালিয়ে আসামিকে তার নানার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছি।’

ঠাকুরগাঁও পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন বলেন, ‘এরইমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি তার অপরাধ স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় নিহত আব্দুর রহমানের ছেলে বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।’

এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সার্ভিসিং সেন্টারের ভেতরে আব্দুর রহমানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

এসএস