সকালের সূর্য উঠতেই যশোরের মাঠে শুরু হয় ধান রোপণের কাজ। একসময় এই কাজ করতে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে থাকতে হতো কৃষকদের। তবে এখন আগের মতো সারিবদ্ধ কৃষকের দল নয়, এখন মাঠে ধান রোপণে যন্ত্রের ব্যস্ততা।
যশোরের বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতে সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে চলছে ধান রোপণ মেশিন। মুহূর্তেই কাদা মাটির জমিতে বসে যাচ্ছে সবুজ ধানের চারা। অল্প কয়েক মিনিটেই এক বিঘা জমিতে ধানের চারা বসিয়ে দিচ্ছে।
কৃষকেরা বলছেন, আগে এক বিঘা জমিতে ধান রোপণে কয়েকজনের পুরো দিন লেগে যেত। শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় ধান রোপণে অনিশ্চয়তায় ছিলেন তারা। মেশিন ব্যবহারে সেই দুশ্চিন্তা কমেছে। সময় বাঁচছে, কমছে শ্রমিক খরচ, আর নির্ধারিত সময়েই জমিতে রোপণ সম্পন্ন করা যাচ্ছে।
কৃষকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা লাগতো হাতে রোপণ করতে। আমি সেই জায়গায় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় রোপণ করে দিই। সারিবদ্ধভাবে লাগাইলে কুশিগুলো বেশি হয়, ফলনও বৃদ্ধি হয়।’
অন্য একজন বলেন, ‘যে লেবার সংকট ছিল সেটা দূর হয়েছে এবং সহজে এবং অল্প খরচে এই মাঠে আমরা ধান রোপণ করতে সক্ষম হয়েছি।’
আরও পড়ুন:
মেশিনে রোপণের বেশ কিছু সুবিধা দেখছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। সমান দূরত্বে চারা বসানোয় জমির পরিচর্যা সহজ হয়। সার ও সেচ ব্যবস্থাপনাও করা যায় নিয়মমতো। এতে ফলন বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।
যশোর বাঘারপাড়ার কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ইয়ামিন হোসেন বলেন, ‘বোরোর সময় লেবার সাশ্রয়, ঠিক তেমনই যখন এই চারার থেকে চারা হওয়ার পরেও আমরা যখন মূল মাঠে যাই, মূল মাঠ থেকেও আন্তঃপরিচর্যাটা খুবই সহজে করতে চায়। মানে একইসঙ্গে তারা দুইটা সময় লেবার সাশ্রয় হয়। এক্ষেত্রে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমে যায়, তাদের উৎপাদনটা বৃদ্ধি পায়।’
সরকারিভাবে ভর্তুকি ও প্রশিক্ষণ দেওয়ায় যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় দ্রুত বাড়ছে ধান রোপণ যন্ত্রের ব্যবহার। অনেক কৃষক যৌথভাবে মেশিন কিনে ব্যবহার করছেন বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সমরেন বিশ্বাস বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সেটা ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে, কোথাও ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে আবার কোথাও বিভিন্ন প্রকল্প আওতায় বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। সুতরাং এটা কার্যক্রম চলমান আছে এবং আমাদের কৃষি অফিসারদেরকে আমাদের নির্দেশনা দেয়া আছে মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারীদের নির্দেশনা দেয়া আছে। তারা যেন এটা কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ব্যবহার করে কস্ট সে কস্টটা কমিয়ে নিয়ে আসতে পারে এবং শ্রমের যে সল্পতা রয়েছে সেটাও পূরণ করতে সক্ষম হয়।’
চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের এই ধারা অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।





