ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে এ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এমন প্রেক্ষাপটে তার জয়কে অনেকেই দেখছেন সাংগঠনিক দক্ষতার ফল হিসেবে।
সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ওবায়দুর রহমানের কন্যা শামা ওবায়েদের রাজনীতিতে পথচলা দীর্ঘদিনের। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তিনি বারবার জানান, উত্তরাধিকারকে সুবিধা হিসেবে নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। আর মানুষের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ।
তিনি বলেন, ‘এ বিজয় উল্লাসের নয়, দায়িত্বের। সালথা-নগরকান্দার মানুষ দীর্ঘদিন অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় পিছিয়ে। সংসদে যাওয়ার পর আমার প্রথম কাজ হবে এ অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সংরক্ষণাগার ও হিমাগার স্থাপন, নারীদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা এবং তরুণদের কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হবে।’
আরও পড়ুন:
এদিকে ফরিদপুর-৩ আসনে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। এ আসনটি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। তার বিজয়কে বিএনপির জন্য ‘আস্থা পুনরুদ্ধার’ হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
নায়াব ইউসুফ আহমেদ বলেন, ‘ফরিদপুর শহরকে আধুনিক ও নিরাপদ নগরীতে রূপ দিতে চাই। বিভাগ বাস্তবায়ন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়াই আমার অগ্রাধিকার।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ শুধু অতীত স্মৃতি দিয়ে ভোট দেয় না, তারা ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দেখে সিদ্ধান্ত নেয়। আমি সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণের দায়িত্ব পালনে সক্রিয় থাকবো।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরের ভোটারদের রায়ে নারীর নেতৃত্বের সমর্থন প্রসঙ্গে ,ফরিদপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির সনাকের সাবেক সভাপতি এডভোকেট শিপ্রা গোস্বামী বলেন, ‘নির্বাচনে জয় যেমন রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেয়, তেমনি বাড়িয়ে দেয় প্রত্যাশা। শামা ও নায়াব দু’জনের কাছেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা এবং দলমত নির্বিশেষে সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।’





