জ্বালানি সংকটে প্রায় থমকে গেছে ভোলার বিসিক শিল্প নগরীর চাকা। একের পর এক কারখানায় কমে গেছে উৎপাদন, কোথাও কোথাও পুরোপুরি বন্ধ কার্যক্রম।
ভোলার বিসিক শিল্প নগরীতে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান খাঁন ফ্লাওয়ার মিলস। প্রতিদিন ময়দা, মুড়ি ও সুজিসহ নানা পণ্য উৎপাদন হয় কারখানাটিতে। উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ করতে প্রতিদিন ৩৫০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয় কারখানাটির। কিন্তু চাহিদামাফিক না মেলায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম কারখানার কার্যক্রম। চাহিদা মতো তেল না পাওয়ার অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
সংকটের প্রভাব পড়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর ফিডিং কর্মসূচিতেও। জ্বালানি সংকটে কারখানা বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য রুটি উৎপাদন। এদিকে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শিল্প নগরীর কয়েক হাজার শ্রমিক। তেলের কারণে যান চলাচল বন্ধ থাকার কথা জানান শ্রমিকরা।
আরও পড়ুন:
গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীর জন্য ফিডিং রুটি আমরা তৈরি করি। যদি ডিজেল সংকটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আমাদেরও রুটি তৈরি বন্ধ করে দেয়া লাগবে।’
কারখানাগুলোর জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিতে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস বিসিকের এ কর্মকর্তার। আর তেলের অবৈধ মজুত ঠেকাতে নানা পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
ভোলা বিসিক শিল্পনগরীর উপ-ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হাফিজুর বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিল্প উদ্যোক্তারা যেন তেল পান সে বিষয়ে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ভোলা জেলা প্রশাসক ড.শামীম রহমান বলেন, ‘কেউ যদি আমাদের কাছে আবেদন করে, তাদের খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে তাহলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’
ভোলার বিসিক শিল্পনগরীতে ২৭ টি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল চালিত ১০ টি প্রতিষ্ঠান ভুগছে জ্বালানি সংকটে।





