মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল; ময়মনসিংহে দেড় বছরে ৩৭৪ দুর্ঘটনা

দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস | ছবি: সংগৃহীত
0

ময়মনসিংহের মহাসড়কগুলোতে কোনোভাবেই থামছে না দুর্ঘটনা। জেলা বিআরটিএ তথ্য বলছে, ২০২৫ ও ২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত জেলায় ৩৭৪টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৬৩ জন, আহত ৪১০জন। সড়ক দুর্ঘটনায় আপনজন হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার। মহাসড়কে তিন চাকার বাহন চলাচল, বেপরোয়া গতি ও আইন না মানার প্রবণতাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

ময়মনসিংহের পুলিশ লাইন্স মাঠে দাঁড়িয়ে ঘাতক রাজীব পরিবহনের বাসটি, পাশে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া সিএনজিটির ধ্বংসাবশেষ। এদিকে মহাসড়কে এখনো শুকায়নি রক্তের দাগ, বেঘোরে ঝরে গেলো তাজা ৭টি প্রাণ।

গত ২ অক্টোবর নগরীর গন্দ্রপা বাইপাস এলাকায় জামালপুর থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা সিএনজি ও ঢাকা থেকে জামালপুরগামী রাজিব পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ সিএনজিতে থাকা ৭ যাত্রী নিহত হন। স্বজন হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার আর দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা।

স্থানীয়রা জানান, বেপরয়াভাবে যানবাহন চালানো হয়। সড়কে যানবাহন বেড়েছে তবে সড়ক সে তুলনায় প্রশস্ত নয়।

মহাসড়কে নিষিদ্ধ হলেও বিভিন্ন সড়কে নিয়মিতই চলছে সিএনজি ও অটোরিকশার মতো থ্রি হুইলার যানবাহন। ত্রিশালের বালিপাড়া, বইলর চেলেরঘাট, শম্ভুগঞ্জ-মনতলা, ভালুকার মত বিভিন্ন এলাকা সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক মো. গোলাম মাওলা তালুকদার বলেন, ‘লোকবল সংকট, গণসচেতনতার অভাব এবং অভিযান চালালে স্থানীয়দের বাধা দেয়ার কারণে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ডাম্পিং ইয়ার্ড না থাকায় জব্দ করা যানবাহন রাখারও সংকট রয়েছে।’

বিআরটিএর তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ২২৫টি, নিহত হয়েছে ২২০ জন আর আহত ২৬৯ জন। এদিকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৪৯টি। মারা গেছে ১৪৩ জন। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

ময়মনসিংহ সার্কেলের বিআরটিএ সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাসে ২০ থেকে ২৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, অবৈধ ইউ-টার্ন বন্ধ, নিষিদ্ধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও বেপরোয়া গতি রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হোক।’

সড়কে দুর্ঘটনা এবং হতাহতের কমাতে নিষিদ্ধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ ইউ টার্ন বন্ধ এবং বেপরোয়া গতি রোধের পাশাপাশি কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে-এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

এফএস