আজ (রোববার, ১৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত অপারেশনের মাধ্যমে সুজন পালের দেহ থেকে বুলেট বের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম।
ভোরে উপজেলার মাইলোড়া এলাকায় রামকৃষ্ণ মন্দিরের পাশে তাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠায়।
সুজন পাল খালিয়াজুরী উপজেলার মেহেন্দিপুর গ্রামের জিতেন্দ্র পালের ছেলে। তিনি মোহনগঞ্জ পৌরশহরে একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করতেন। স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে তিনি মাইলোড়া এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।
সুজন পালের প্রতিবেশীরা জানায়, ভোরে বাসার পাশেই রামকৃষ্ণ মন্দিরের সামনের পুকুরে যাচ্ছিলেন তিনি। এসময় মোটরসাইকেলে করে আসা মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা সুজনকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে উন্নতি চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ পাঠানো হয়।
সুজন পালের স্ত্রী টুম্পা পাল জানান, মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারী ব্যক্তি তার কাছে দুবাইপ্রবাসী পলাশ সাহার বাড়ির অবস্থান জানতে চান। এ সময় তাদের একজন অস্ত্র বের করলে সুজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তাকে গুলি করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অলক কান্তি তালুকদার বলেন, ‘সুজন পালের পিঠে গুলি লেগেছে। সকালে তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এখানে নিয়ে আসে পরিবারের লোকজন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
মোহাম্মদ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মূলত সন্ত্রাসীরা দুইটি মোটরসাইকেল এলাকাটিতে প্রবেশ করেছিলেন। পরবর্তীতে একজনের হাতে অস্ত্র দেখে সুজন দৌড়ে পালানোর সন্ত্রাসীরা তাকে পেছন দিক থেকে এক রাউন্ড গুলি ছুড়ে।’
তিনি জানান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে শরীর থেকে বুলেট বের করা হয়েছে। এখন রোগী শঙ্কামুক্ত রয়েছে। কথাও বলতে পারছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছি। জড়িতদের শনাক্তে এরই মধ্যে আমাদের অভিযান শুরু হয়েছে।





