চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটের আমের হাট কিংবা সোনা মসজিদ স্থলবন্দর, প্রতিদিনই এসব জায়গা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। এত বড় বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরও পণ্য পরিবহনে ট্রাকভাড়ায় নেই কোনো সরকারি নির্ধারিত কাঠামো। স্থানীয় চুক্তি ও সমঝোতার ভিত্তিতেই ঠিক হচ্ছে ভাড়া। এতে তৈরি হচ্ছে নানা জটিলতা ও অনিশ্চয়তা। বাড়ছে চালক, মালিক ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি; ঘটছে বাকবিতণ্ডাও। তাই পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়াও সরকারি নির্ধারণের দাবি ব্যবসায়ীদের।
ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারের নির্ধারিত ভাড়া নেই। ট্রাক টার্মিনালে ভাড়া, যখন যেরকম হচ্ছে তখন সেরকম বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। কোন রুটে কত ভাড়া হবে, তা নিয়ে তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।
ট্রাক চালকরা জানান, ঢাকা আপ-ডাউন করে ঘুরে আসলে ১ থেকে ২ হাজার টাকা লাগছে। এজন্য গাড়ি চালাতে তাদের কষ্ট হছ্ছে বলে জানান তারা।
নির্দিষ্ট ভাড়া কাঠামো না থাকায় চালক ও মালিকদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে অবিশ্বাস, বাড়ছে বিরোধ। ভাড়ার টাকা ইচ্ছেমতো কাটছাঁট করার অভিযোগও রয়েছে। তাই সরকারি উদ্যোগে বাস্তবসম্মত ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন। আর ট্রাকভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জেলা ট্রাক সাইদুর রহমান বলেন, ‘যে যেখানে পারছে, সে সেখানে সেভাবে ভাড়া নিচ্ছে। টনপ্রতি ভাড়া কত মাইলে কত ভাড়া হবে, এটা একটা নির্ধারণ হওয়া প্রয়োজন।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক মো. শাহজামান হক বলেন, ‘সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। একটা মিটিংয়ে আলোচনাও হয়েছে। আমরা আশাবাদী যে অচিরেই এটার একটা ভাড়া নির্ধারণ হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রতিদিন ছাড়ে হাজারের বেশি পণ্যবাহী ট্রাক। জ্বালানীর দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে সম্প্রতি রুটভেদে ভাড়া বেড়েছে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। দ্রুত এর সমাধানে সরকারি উদ্যোগ চান সংশ্লিষ্টরা।





